মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি, ১৯ জেটি বিধ্বস্ত, ভেসে এলো মৃত ও জীবিত ৬ হরিণ

সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি, ১৯ জেটি বিধ্বস্ত, ভেসে এলো মৃত ও জীবিত ৬ হরিণ

ঝড় ও জোয়ারে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ৪টি কমিটি

পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে পূর্ব বনবিভাগের ১৯টি জেটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯টি পুকুর, ১০ অফিস, ২৪টি পাটাতনের রাস্তা ও ছয়টি জলযান। উড়ে গেছে বন বিভাগের স্টেশনের টিনের চালা। ভেঙে গেছে দুটি টাওয়ার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বনের দুর্গম এলাকায় সবার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

প্রাথমিকভাবে এ তথ্যগুলো পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণে বন বিভাগ চারটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। এই বন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত বন বিভাগের চারটি রেঞ্জ এলাকা। যার দুটি বাগেরহাটে অবস্থিত। এরইমধ্যে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের অন্তর্গত শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ শুরু করেছে কমিটির কর্মকর্তারা। সুন্দরবনের খুলনা জেলার নলিয়ান ও সাতক্ষীরা জেলার বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জেও একই ভাবে সেখানখার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

 

 

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বনের অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে দুপুরে জোয়ারের সময়ে আবারও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ার ও বাতাসের গতিবেগ থাকায় বনসংলগ্ন নদীখাল পরিপূর্ণ রয়েছে। তবে সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণি কেন্দ্রের কুমির, হরিণ ও কচ্ছপ নিরাপদে রয়েছে। এদিকে বাগেরহাটে ও পিরোজপুরে ৪টি মৃত ও ২টি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

এরমধ্যে বাগেরহাটে পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা চারটি মৃত ও দুইটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুন্দরবন পূর্ববন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

বাগেরহাটে সুন্দরবন থেকে জোয়ারের পানিতে একে একে লোকালয়ে ভেসে আসে ৪টি মৃত হরিণ। এর মধ্যে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য, দুবলার চর থেকে দুটি ও শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের তাফালবাড়ি গ্রাম থেকে একটি ও রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ^র গ্রাম থেকে একটি মৃত হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

 

 

অন্যদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা দুটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গোলবুনিয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া হরিণ দুটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৬টার দিকে উপজেলার উলুবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে দুটি হরিণ দেখতে পায় গ্রামবাসীরা। পরে তারা হরিণ দুটি ধরতে ধাওয়া করলে একটি হরিণ ধরতে পারে অন্যটি পালিয়ে যায়। চার ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে একই উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রাম থেকে অন্য হরিণটিও উদ্ধার করা হয়।

 

 

উলুবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, সকালে আমার বাড়ির সামনে দুটি হরিণ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে হরিণ দুটিকে ধরে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবন বগি রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেক মাহমুদ বলেন, দুটি চিত্রা হরিণ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

ধারণা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে হরিণ দুটি লোকালয়ে চলে এসেছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হরিণ দুটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ৩ নম্বর সংকেত জারি করা হয়।

 

 

ঝড়ো হওয়া ও জলোচ্ছ্বাস স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট উচ্চতায় পানি সুন্দরবন প্লাবিত করে। ফলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন