বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ থামছেই না : বাড়ছে উদ্বেগ

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ থামছেই না : বাড়ছে উদ্বেগ

প্রতিনিয়ত ঘটছে অবৈধ অনুপ্রবেশ : মহেশপুর ও কলারোয়ায় একদিনে আটক ১৪

সীমান্তবর্তী যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহসহ খুলনা বিভাগে করোনার ভয়াবহ বিস্তার শুরু হয়েছে। একের পর এক করোনার ভারতীয় ভ্যরিয়েন্ট শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকার পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকন্ঠা। প্রশাসন একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবুও যশোর, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে অসংখ্য মানুষ। সীমান্তের চোরা গেট দিয়ে দালালদের মাধ্যমে তারা এপারে আসছে। কখনও বিজিবর চোখ ফাঁকি দিয়ে, কখনও বা বিজিবি সদস্যদের তুষ্ট করে তারা দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায়ই কেউ না কেউ এ সকল চোরা গেট দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজিবি’র হাতে আটক হচ্ছে। তবে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ যে পরিমানে আটক হচ্ছে তারচেয়ে কয়েকগুন বেশি মানুষ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ফলে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে সীমান্তবর্তী যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলা। আর তা ধিরে ধিরে গোটা দেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বুধবার একদিনেই ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় ১৪ জন আটক হয়েছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত হতে ৪ জন ও সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত হতে ১০ জন আটক হওয়ার খবর জানিয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরা থেকে সংবাদদাতা জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় এক রোহিঙ্গাসহ ১০ জনকে আটক করেছে বিজিবি। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযানে তাদেরকে কলারোয়া উপজেলার মাদরা, কাকডাঙা ও তলুইগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার শিংলাল গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মোমিন (২৫), ভাদিয়ালি গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আতিকুল ইসলাম (২৭), সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আজিজুল বিশ্বাসের ছেলে শাহাজাহান বিশ্বাস (৩৭), তার স্ত্রী আরিফা খাতুন (২২), মুকুন্দপুর গ্রামের জিয়ারুল ইসলামের ছেলে আবীর হোসেন (১৬) ও আসিফ কবীর (১৪), কক্সবাজেরর উখিয়া রেহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের নাজির হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেরুলি গ্রামের মিলন শেখের ছেলে মাহাবুব শেখ (২৫), একই উপজেলার জামিলডাঙ্গা গ্রামের চাঁন খার স্ত্রী কুয়াছিনা (৩২) ও যশোর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ছাবরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৫)। সাতক্ষীরা বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল মাহমুদ জানান, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ টহল বাহিনীর সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে ভারত থেকে আসার সময় তাদের আটক করে। তাদেরকে কালীগঞ্জের নলতা আহছানিয়া মিশনের আশ্রয়কেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদের কলারোয়া থানায় সোপর্দ করা হবে। এদিকে ঝিনাইদহ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার অপরাধে নারীসহ ৪ জনকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো-বরিশালের অগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার গ্রামের হারান জয়দারের ছেলে পরেশ জয়দার (৫০), মেয়ে দিপালী জয়দার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়নাল গ্রামের নিজাম মোল্লার ছেলে করিম মোল্লা (২৪) ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড়গোবিন্দ গ্রামের ষষ্টি বিশ্বাসের ছেলে সুরত বিশ্বাস (২৪)। মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, সীমান্তের তারকাটা বিহীন এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারত থেকে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে মাটিলা সীমান্ত থেকে নারীসহ ৩ জন ও যাদবপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা সংবাদদাতা আরও জানিয়েছেন, অতিমারি করোনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তপথে অবৈধ যাতায়াত বন্ধে জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এজন্য সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়ন কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও চন্দনপুরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিন ইউনিয়নের জন্য বুধবার থেকে তিনদফা নির্দেশনা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সতর্কতামূলক প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বর, বিজিবি প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধিজনরা। বুধবার সকালে তিন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পৃথকভাবে এসব প্রচারণামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান। এসব সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। জরুরি এসব সভায় এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। তাদেরকে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করা হয়। একইসাথে সীমান্ত দিয়ে কোনো মানুষ যাতে অবৈধভাবে ভারতে যাতায়াত করতে না পারেন এবং ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করতে না পারেন সে ব্যাপারে বিজিবির পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। সভাগুলোতে মানব পাচারের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়। এদিকে, কলারোয়ার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তিনটি নির্দেশনা জারি করা হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় বুধবার থেকে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেন উপজেলার নির্বাহী অফিসার। বিধিনিষেধগুলো হলো- (১) কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও চন্দনপুর ইউনিয়নে সন্ধ্যা ৭টার পর ওষুধের দোকান বাদে সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। (২) বাড়ির বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং (৩) স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সংযুক্ত থাকুন