রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
শ্যামনগরে উপকূলীয় ২১ স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

শ্যামনগরে উপকূলীয় ২১ স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

বাঁধ ভেঙ্গে ৬ গ্রামসহ বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত


কয়েকদিন ধরে খোলপেটুয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দূর্গাবাটি জোয়ারে আনুমানিক ২০০ ফুট বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে নদীর প্রবল স্রোত লোকালয়ে প্রবেশ করে অত্র ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম সহ বিস্তির্র্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

 

 

এতে শত শত মৎস্য ঘের, কাঁকড়ার হ্যাচারী পানিতে ভেসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী সহ বিভিন্ন প্রাণী মারা গেছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছে। গত ৩০ মার্চ নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পশ্চিম দূর্গাবাটি গ্রামের সাবেক মেম্বর নীলকান্ত রপ্তান বাড়ীর সামনে আনুমানিক ৫০ ফুট বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।

 

 

এ সময় বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান  ভবতোষ কুমার মন্ডল ও জেলা পরিষদের সদস্য ডালিম কুমার ঘরামী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় আনুমানিক ২শত শ্রমিক নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি বাধতে সক্ষম হয়। বুধবার দিনগত রাতে অস্বাভাবিক জোয়ারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। অত্র ইউনিয়নের পশ্চিম দূর্গাবাটীর, পূর্ব দূর্গাবাটীর, ভামিয়া, মাদিয়া, পোড়াকাটলা ও আড়পাঙ্গাশিয়া ৬টি গ্রাম সহ বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হয়।

 

 

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ী, মুন্সিগঞ্জ, আটুলিয়া ও কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয় জানান, শ্যামনগরে নদী বেষ্টিত ৭টি ইউনিয়নের ২১ টি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধ রয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া, নাপিতখালী, গাংড়ামারী, ৯ নং সোরা, হরিশখালী, জেলেখালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দূর্গাবাটী, পূর্ব দূর্গাবাটী, দাতিনাখালী, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপালী, কৈখালী ইউনিয়নের বিওপি ক্যাম্পের পাশে, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী, ছোট ভেটখালী, বড় ভেটখালী, দক্ষিন কদমতলা, টেংরাখালী, পদ্মপুুকুর ইউনিয়নে চাউলখোলা, খুটিকাটা, চন্ডিপুর, পাতাখালী ও ঝাঁপা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধ নতুন ডিজাইনে সংস্কার করা না হলে আগামী বড় জোয়ারে শ্যামনগরে ৭টি ইউনিয়ন সহ অন্যান্য ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নদীর পানিতে হাবু-ডুবু খাবে।

 

 

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, দু’দিন ধরে এলাকার শ্রমিকদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি সংস্কারের চেষ্টা করেও বুধবার দিবাগত রাত্রে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্যামনগর শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েল স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখনো তিনি ভাঙ্গন কূলে অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধের পাশে বাঁশ পেরেক ও বস্তা পাঠানো হয়েছে।

 

এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করলে আজকে (গতকাল বৃহস্পতিবার) বাঁশের পাইলিং এর কাজ শেষ করা সম্ভাব হবে। আগামীকাল (আজ শুক্রবার) বাঁধ বাধা সম্ভব হবে। সংশি¬ষ্ট তথ্যমতে ২০০০ সালের পূর্বে কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধের সবস্থানে প্রতি বছর সংস্কার এর কাজ করা হতো তবে ২০০০ সাল থেকে কাবিখা প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর পাউবোর বেড়ীবাঁধ এর ২১ বছর যাবৎ সংস্কার করা হয় না। যার কারনে অধিকাংশ বেড়ীবাঁধ নিচু হয়ে গেলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে ঐ সমস্ত নিঁচু এলাকা দিয়ে নদীর পানি অভারফ্লো হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। যে সমস্ত বেড়ীবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বা জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তুলা গোজার মত সংস্কারের কাজ করা হয়। যা কিছুদিন যেতে না যেতে পূর্বের ন্যায় চলে যায়।

 

 

সম্প্রতি দাতিনাখালী জুয়েল কাঁকড়ার হ্যাচারীর সামনে আম্ফানে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় উক্ত স্থানে বালু বিশিষ্ট বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা হলে বর্তমানে প্রবল জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

সংযুক্ত থাকুন