বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
লকডাইনের মধ্যেও ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের কবলে সাতক্ষীরা : একদিনে আক্রান্ত ১শ’৮৭

লকডাইনের মধ্যেও ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের কবলে সাতক্ষীরা : একদিনে আক্রান্ত ১শ’৮৭

দুই সহোদরসহ ৫ জনের উপসর্গে মৃত্যু


সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় লকডাউনের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৭ জনের করোনা পরীক্ষা শেষে ১০৩ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৯৮৯ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৪৮ জন। এদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন এক নারী ও আপন দুই সহোদরসহ আরো ৫ জন। এ নিয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন আরো অন্ততঃ ২৩২ জন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মনিরা খাতুন, দেবহাটা উপজেলার বদরতলা গ্রামের সুশংক, শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালী গ্রামের আপন দুই ভাই তোহা কামাল ও শোয়েব খান এবং সদর উপজেলার হাওয়ালখালীর আবুল হোসেন। অপরদিকে করোনার ঊর্ধ্বগতি সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় সাতদিনের লকডাউনের চতুর্থ দিনে প্রশাসনের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশী। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাসসহ সকল ধরনের গণপরিবহন। তবে কিছু কিছু এলাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও মটরসাইকেল চলাচল করেতে দেখা গেছে। লকডাউনের মধ্যে ওষুধের দোকানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান খোলা রয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দরেও সীমিত পরিসরে চলছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারে সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘন্টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৩টি অভিযানে ৭০ টি মামলায় ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়াত জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় ১৮৭ জনের করোনা পরীক্ষা শেষে ১০৩ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। করোনা সন্দেহে মেডিকেলে দুই জন ও সদর হাসপাতালে এক জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো জানান, করোনা সন্দেহে এ পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন ২৩২ জন। বর্তমানে জেলায় লকডাউন চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভাল রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংযুক্ত থাকুন