শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
Logo
রামপালে তীব্র লবণাক্ততার মধ্যেও বেড়েছে বোরো আবাদ

রামপালে তীব্র লবণাক্ততার মধ্যেও বেড়েছে বোরো আবাদ

তীব্র লবণাক্ততার মধ্যে ও রামপালে বোরো ধানের আবাদ বেড়েছে। লবন সহিষ্ণুজাত, উন্নত বীজ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সঠিক বীজ নির্বাচণ ও সেচ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার ফলে এ উপজেলায় উত্তরোত্তর আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৯ টি ইউনিয়নে মোট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৫৫ হেক্টর।

 

তা বৃদ্ধি পেয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। গৌরম্ভা ইউনিয়নে হাইব্রিড জাতের ৪৪৫ ও উফশী ৮৫ হেক্টর। উজলকুড় ইউনিয়নে হাইব্রিড ২ হাজার ১০৫ ও উফশী ২৬০ হেক্টর। বাইনতলা ইউনিয়নে হাইব্রিড ৭৬০, উফশী ১৮০ ও স্থানীয় ০৫ হেক্টর। রামপাল সদর ইউনিয়নে হাইব্রিড ২৪০ ও উফশী ১৬৫ হেক্টর। রাজনগর ইউনিয়নে হাইব্রিড ৩৭ ও উফশী ১১ হেক্টর। হুড়কা ইউনিয়নে হাইব্রিড ০৩ হেক্টর। পেড়িখালী ইউনিয়নে হাইব্রিড ০১ ও উফশী ০১ হেক্টর। মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে হাইব্রিড ২৮ ও উফশী ০৬ হেক্টর। বাঁশতলী ইউনিয়নে হাইব্রিড ০১ ও উফশী ০২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

 

গোবিন্দপুরের কৃষক হাওলাদার মারুফুল হক, ভরসাপুর আইপিএম ক্লাবের সভাপতি আনসার আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, রামপাল কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেন না, কোন প্রকার পরামর্শ ও দেন না। তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে আবাদ ভালো হয়েছে, পোকামাকড় দেখা যায়নি কিন্তু ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। গাছ কেটে দিচ্ছে। এতে বেশ ক্ষতি হচ্ছে। আমরা স্ব উদ্যোগে সবকিছু করছি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মন্ডল এর সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন কারণে এবছর বোরো'র আবাদ বেড়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ গুলো হলো, আমন মৌসুমে ভালো ফলনের কারণে কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়েছে। নতুন করে বাঁশতলী ও মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে আবাদ সম্প্রসারণ কারা হয়েছে।

 

প্রণোদনা পুনর্বাসনের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৭০ জন্য কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে ১ হাজার কৃষককে হাইব্রিড এসএলএইটএইচ ধানের বীজ দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান ব্রি-৬৭ ও বিনা ধান ১০ জাত সরবরাহের বৃদ্ধি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপর আস্তা বৃদ্ধি, সার, বীজ সঠিক সময়ে সরবরাহ, ন্যায্য মূল্য ও কৃষি যান্ত্রিকিকরণের ফলে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, কৃষক যাতে বেশি করে ফলন বৃদ্ধি করতে পারেন সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২০২০ অর্থ বছরে বোরো'র আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। ২০২১ সালে তার বেড়ে দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর যা গত বছরের চেয়ে ২৭৫ হেক্টর বেশি।

 

চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৭০৮ মে. টন। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ৫৮৫ টন যা বেড়ে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২২৩ মে. টানে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন হতে পারে বলে কৃষি সংশি¬ষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন