বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
যশোর জেলায় করোনার অবনতি : বাড়ছে ঝুঁকি

যশোর জেলায় করোনার অবনতি : বাড়ছে ঝুঁকি

একদিনে আক্রান্ত ৭০ জন : ৭ দিনে শণাক্ত ৩ শতাধিক : এক মাসে ভারত ফেরত ৪৭ জন শনাক্ত

যশোর জেলায় করোনার ভয়াবহ অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। দিন গেলেই বাড়ছে ঝুঁকি। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ভারত ফেরত ছয়জনসহ ৮৯ জনের করোনা শানাক্ত হয়েছে। আর গত এক সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ৩শ’ ১ জন। এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে গত ৩৫ দিনে ৪ হাজার ২শ জন ভারত থেকে ফিরেছেন। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশে ফেরেন তারা। তাদের মধ্যে গত সোমবার পর্যন্ত দুই শিশুসহ ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আর যশোর জেলায় করোনা আক্রান্তের এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে দুশ’ ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্য যশোরের বিভিন্ন স্থানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত ছয় জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বাড়ছে ভারত ফেরত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ছয়জন ভারত ফেরত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে শার্শার মৌ আবাসিক হোটেলে দু’জন, নিশাত আবাসিক হোটেলে তিনজন ও গাজীর দরগায় একজন রয়েছেন। ৩১ মে যশোরের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে একশ’ ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ওই ছয়জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, গত ৩৫ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল হয়ে দেশে ফেরা ৪ হাজার ২শ জন বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী। তাদের প্রত্যেককে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ভারতফেরত বাংলাদেশিদের জন্য বেনাপোলের রজনীগন্ধা, পোর্টভিউ, অ্যারিস্টোকেট, জুয়েল আবাসিক, চৌধুরী হোটেল, সিটি আবাসিক, নিশাত হোটেল, ফ্রেশ হোটেল, নাহিদ হোটেল, হোটেল সানসিটি, মৌ হোটেল, হোটেল সিটি, বেনাপোল পর্যটন মোটেল, রহমানিয়া হোটেল, যশোর শহরের হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নয়ন, ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল, জাবের ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল মিডওয়ে, হোটেল ম্যাগপাই, শেখ হাসিনা আইটি পার্ক, হোটেল মনিহার, হোটেল প্রিন্স, হোটেল বলাকা, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল সিটি, যশোর হোটেল, হোটেল সোনালী ও ঝিকরগাছার গাজীর দরগাহ মাদরাসা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, মাগুরা ও ঝিনাইদহে আরও কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে। ভারতফেরত নারীদের নিরাপত্তায় আলাদা কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে যশোর শহরের রেলরোডে জয়তী সোসাইটিতে। কোয়ারেন্টাইনে নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সেখানকার নারীকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। আর করোনা পজিটিভ ও গুরুতর অসুস্থদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধিসহ অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালের রেড জোনে মোট ৫৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ভারত থেকে আসা রোগীর সংখ্যা ১৪ জন। বাকি ৩৯ জন স্থানীয়ভাবে করোনায় আক্রান্ত হন। সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, ভারতফেরতদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। এর মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন। আর সংক্রমণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন ১৩ জন। ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের কারণে যশোর জেলা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ভারত থেকে আসাদের মাঝে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আবার স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। সবমিলিয়ে যশোর জেলা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সংযুক্ত থাকুন