বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
যশোর-খুলনা ও বাগেরহাটে তিন লক্ষাধিক ডোজ করোনার টিকা পৌঁছেছে

যশোর-খুলনা ও বাগেরহাটে তিন লক্ষাধিক ডোজ করোনার টিকা পৌঁছেছে

যশোর, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় তিন লক্ষাধিক ডোজ করোনার টিকা পৌঁছেছে। গতকাল স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে যশোর জেলায় ৯৬ হাজার, বাগেরহাট জেলায় ৪৮ হাজার এবং খুলনা জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ডোজ করোনার টিকা স্ব-স্ব জেলায় পৌঁছেছে। বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর জানান, যশোরে প্রথম ধাপে ৯ হাজার ৬শ’ ভায়াল বা ৯৬ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পৌঁঁছেছে। রোববার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে বেক্সিমকো কোম্পানির ফ্রিজার ভ্যানযোগে ভ্যাকসিনগুলো এসে পৌঁছায়।


এসময় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ভ্যাকসিন গ্রহণ কমিটি ৮ কার্টুনের ওই টিকার চালানটি গ্রহণ করেন। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ভ্যাকসিনগুলো জেলা ইপিআই স্টোরে উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। টিকা প্রদানকালে ৬জন করে টিম গঠন করা হয়েছে।

 

জেলার ১০টি কেন্দ্রে এ টিকা প্রদান করা হবে। ইউনিয়নেও একটি করে টিম গঠান করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি রিজার্ভ টিম রাখা হয়েছে। আজ থেকে টিকা প্রদান প্রশিক্ষণ শুরু হবে। ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করা হবে এবং সরকারের দেয়া অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী টিকা প্রদান করা হবে।


এছাড়া টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবেলায়ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে বলে জানান তিনি। বাগেরহাট সংবাদদাতা জানান, প্রথম ধাপে বাগেরহাট জেলার জন্য বরাদ্দকৃত ৪ হাজার ৮‘শ ভায়াল (বোতল) অর্থ্যাৎ ৪৮ হাজার ডোজ টিকা বাগেরহাটে পৌঁছেছে। রবিবার দুপুর ২টা ত্রিশ মিনিটে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে টিকা বহনের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ গাড়িতে করে এই টিকা আসে। পরে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. ডা. কে এম হুমায়ুন কবির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে টিকা গ্রহন করেন।

 

এসময়, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে নিবন্ধনভুক্ত ব্যক্তিদের টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির। টিকা গ্রহন শেষে সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ধাপে বাগেরহাটের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৮ হাজার ডোজ টিকা আমরা বুঝে পেয়েছি। টিকাগুলো যে তাপমাত্রায় (২ থেকে ৮ডিগ্রি)থাকার কথা ছিল সেই তাপমাত্রায় রয়েছে।

 

ভ্যাকসিনগুলোর গুনগতমান ভাল। আমরা পূর্ব থেকে নিবন্ধনভুক্ত রোগীদেরকে ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে টিকা প্রদান শুরু করব। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনভুক্ত ব্যক্তিদের মুঠোফোনে এসএমএস পাঠানো হবে। ওই এসএমএসে ভ্যাকসিন দেয়ার তারিখ, সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া থাকবে। ওই এসএমএস নিয়ে আসলে আমাদের টিকাদান কর্মীরা তার টিকাদান সম্পূর্ণ করবে।

 

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমধাপে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, গনমাধ্যমকর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, পয়নিস্কাশনকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের করোনা টিকা প্রদান করা হবে। বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা জানান, খুলনায় ১ লাখ ৬৮ হাজার করোনার টিকা পৌঁছেছে। কোল্ড চেইন বজায় রেখে মহানগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকে রবিবার দুপুর ১২টায় এসে পৌঁছায় এসব টিকা।

 

প্রথম ধাপের এ টিকা গ্রহণ করেন খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যের কমিটি। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে খুলনায় এক লাখ ৬৮ হাজার করোনার টিকা এসে পৌঁছেছে। ৯৭ হাজার ২৩০ জন সম্মূখসারির জনগোষ্ঠীর প্রথম ধাপে টিকা প্রদান করা হবে। পরে প্রতি মাসে করোনা টিকা পাওয়া যাবে।


ইতোমধ্যে প্রথম ধাপের টিকা প্রাপ্তদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকলেও টিকা পেতে অবশ্যই নিজের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর যুক্ত করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এছাড়া যে কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে ইচ্ছুক সেটা উল্লেখ করতে হবে ও সেখান থেকেই টিকা গ্রহণ করতে হবে। তবে ১৮ বছরের নিচের শিশু, গর্ভবতী মহিলা, দুগ্ধবতী মা ও মুমূর্ষু রোগীরা এ টিকা নিতে পারবে না। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই।


দেশে যারা টিকা নিয়েছে তারা সকলে আল্লাহর রহমতে ভাল আছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে খুলনা সদর হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, বিজিবি হাসপাতাল, তালতলা হাসপাতাল ও লাল হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়া হবে। আর উপজেলা পর্যায়ে স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ টিকা দেওয়া হবে।

 

প্রতিটি টিকাদানকারী টিমে দুইজন টিকা প্রয়োগকারী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। টিকা প্রদান কাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনায় এক লাখ ৬৮ হাজার ডোজ টিকা খুলনায় পৌঁছেছে। টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকে। এখানে ১৩টি ও নয়টি উপজেলায় ১৭টি আইএলআরে টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টিকা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, নগরের টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালনা করবে খুলনা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। সফল বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সভাপতি ও একই সংস্থার চিফ মেডিক্যাল অফিসারকে সদস্য সচিব করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।


এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম ধাপের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

সংযুক্ত থাকুন