বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
যশোরের যুবকের নারী কেলেংকারী নিয়ে তুমুল হৈ চৈ : ঘটনা ধামাচাপা দিতে চলছে দেনদরবার

যশোরের যুবকের নারী কেলেংকারী নিয়ে তুমুল হৈ চৈ : ঘটনা ধামাচাপা দিতে চলছে দেনদরবার

হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা নারীর পরিবার

যশোরের হালসা বাজারপাড়ার এক যুবকের নারী কেলেংকারির ঘটনায় তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চলছে দেনদরবার ও দৌড়ঝাঁপ। অন্যদিকে, ঘটনার শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারীর পরিবারকে নানামুখি হুমকি দেয়া হচ্ছে।

 

 

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত ও জড়িত যুবকের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকার মানুষ। হাসাপাতাল, স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে তথ্য মিলেছে যশোর সদর উপজেলা হালসা বাজারপাড়ার ইসমাইল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বুকভরা বাওড় এলাকায় একটি মাছের ঘের ও মুরগির খামার পরিচালনা করেন।

 

 

তার কর্মচারী হিসেবে কয়েক বছর কাজ করেন এক নারী। কাজ করার সুবাদে হতদরিদ্র পরিবারের ওই নারীকে বিয়েসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাহিদ। এক পর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এসময় লোকলজ্জার ভয়ে জাহিদুলের কাছে কাকুতি-মিনতি জানান তাকে বিয়ে করার জন্য। এসময় জাহিদুল তাকে ‘নাটক’ না করে বাচ্চা নষ্ট করে দিতে বলে। এরপর ৮ মার্চ আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য ওই নারী তার নিকটজনসহ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। তিনি মেডিকেল টেস্ট করান।

 

 

তার ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রমাণিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ওই নারীর পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়লে স্থানীয়দের দ্বারস্থ হন। এলাকায় ঘটনা জানাজানি হলে ওই নারীর বাড়িতে জাহিদুলের লোকজন এসে হুমকি দিয়ে যায়। ঘটনাটি চেপে যেতে বলা হয়। জাহিদুলের ভাই বিদেশফেরত বাবুলসহ কয়েকজন এলাকায় হম্বিতম্বি করে আতংকের সৃষ্টি করে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ওই নারী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও তোয়াক্কা করছেনা জাহিদুল চক্র। উল্টো তিনিও জাহিদুলের রোষানলে পড়েছেন। এখন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিয়ে তার পরিবার পড়েছেন মহাবিপাকে। এ ব্যাপারে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিতে গেলে ওই নারীর মা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান তারা গরীব মানুষ, ন্যায় বিচার চান। তার মেয়ের সর্বনাশ করেছে জাহিদুল। লোকলজ্জার ভয়ে এবং বিচার না পেয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এখন মেয়েটি কোথায় রয়েছেন তাও তিনি বলতে পারেন না। মাঝে জাহিদুলের লোকজন বাড়িতে এসে ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে গেছে। ওই নারীর বোন জানান, তার বোনের সাথে অবিচার হচ্ছে।

 

 

জাহিদুল চক্রের ভয়ে তারা কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি। জাহিদুলের মুরগি খামারে কাজ করতেন তার বোন। এই সুযোগে বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। কিন্তু, এখন বোনের সর্বনাশ করে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে জাহিদুল। তাদেরকে ফেলেছে মহাবিপদে।

 

 

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, জাহিদুলই সর্বনাশ করেছে মেয়েটির। তিনি নিজে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেয়েছেন। তিনি জাহিদুলের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি অসহায় ওই নারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশসহ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের সাথে তার মোবাইল কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংযুক্ত থাকুন