বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
মোড়েলগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে ৩শ’ বিঘা মৎস্য ঘের!

মোড়েলগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে ৩শ’ বিঘা মৎস্য ঘের!

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৩শ’ বিঘার একটি মৎস্য ঘের প্রভাবশালীদের দখলে। হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়ে আতংকে দিন কাটছে ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ মাসুদের পরিবারের।

 

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ মাসুদ ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল ইসলাম গোলামের পরিবারকে চাাঁদাবাজি, মারপিট মামলাসহ বিভিন্ন হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে একই এলাকার প্রভাবশালী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

 

তার সহযোগী পার্শ্ববতী উত্তর ফুলহাতা গ্রামের কামরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদার ৩১ ডিসেম্বর সকালে পৈত্রিক বসতবাড়ির পুকুর থেকে বাগদা গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের সাদা মাছ ধরে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য’র বোন পারভীন সুলতানা বাদি হয়ে কামরুজ্জামান সোহাগসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভূক্তভোগী পরিবার যুবলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম গোলাম, ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ মাসুদ জানান, আওয়ামী লীগ করেও নব্য আওয়ামী লীগের সহোচরদের অত্যাচারে আজ বাড়ি ঘর ছাড়া, ছোট ভাই ইউপি সদস্য অবস্থান করছে উপজেলা শহরে।

 

নিজেও ২০১৬ সালে পৈত্তিক ভিটে ছেড়ে বসবাস করতে হচ্ছে অন্যত্র। স্ত্রী সহকারি শিক্ষিকা খালিদা ইয়াসমিনকে হয়রানিমূলক একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। ৩শ’ বিঘার আবুল কালাম মোল্লার নামে রেজিষ্টিকৃত ওই মৎস্য ঘেরটি স্থানীয় লোকজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা জমির মালিকরা মৎস্য ঘের করতাম। সেই ঘেরটি দখল করেছে সোহাগ হাওলাদার ও তার লোকজন।

 

তার ভয়ে এলাকায় কোন মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে পারেনা। সোহাগের বিরুদ্ধে বাগেরহাট মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ থানায় একাধিক সাধারণ ডায়রী করেছে ভূক্তভোগীরা। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন আতংকে দিন কাটতে হচ্ছে তাদের।

 

এ ছাড়াও এলাকার ওই ঘেরের জমির মালিক সুলতান মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লাসহ একাধিক ভূক্তভোগীরা জানান, তারা ঠিকমত জমির হারির টাকা পাচ্ছে না ও কৃষকরা বছরের ফসলও দিতে পারে না জমিতে। অন্যদিকে বয়ারসিংহ সরকারি রেকর্ডিও খালটি বাঁধ সৃষ্টি করে ঘেরের সাথে মিশিয়ে মৎস্য ঘের করছে ওই প্রভাবশালীরা।

 

এ সর্ম্পকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, নিজ পৈত্রিক জমিতে স্থানীয়রা মিলে এ ঘেরটি করা হয়েছে। করো জমি বেদখল ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেননি তিনি।

 

এ বিষয়ে বর্তমান মৎস্য ঘের মালিক সোহাগ হাওলাদার বলেন, স্থানীয়দের হারির টাকা পরিশোধ করে মৎস্য ঘেরটি করা হচ্ছে। জোর পূর্বক নয়। স্থানীয় রাজনৈতিকতার শিকারে তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বাগেরহাট থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

 

সংযুক্ত থাকুন