রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
মোড়েলগঞ্জে পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্থবির : সেবা ও উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকাবাসী

মোড়েলগঞ্জে পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্থবির : সেবা ও উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকাবাসী

তিন বছর ধরে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩নং পুটিখালী ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। যে কারনে এলাকার সাধারন মানুষ সঠিক সেবা ও ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন পার হলেও আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের ঢিলেমির কারনে মিলছেনা কোন প্রতিকার।


ইউপি চেয়ারম্যান মো: শাহচান মিয়া (শামীম )এর বেশ কিছু সুনির্দ্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে ১১ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা দেয়। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হলে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হলেও নির্বাচিত বাকি ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা বন্ধ করে দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। সেই থেকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পেয়েও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বার বার আশ্বাসের বানী ছাড়া মিলছেনা সঠিক কোন প্রতিকার এমন অভিযোগ পুটিখালী ইউপির সকল সদস্যদের।


তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩নং পুটিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহ্ চান মিয়া (শামীম) এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ, বিধবা , বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহন কারিগনের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন, ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডের চাল আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই তারিখে অত্র ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা প্রদান করেন।


চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯” এর বিধি ৩৯(৫) মোতাবেক ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর অত্র ইউনিয়ন পরিষদে বিশেষ সাধারন সভা আহবান করা হয়। সভায় ১২ জন সদস্য উপস্থিত থাকেন এবং উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ১১ জন সদস্যই তার অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন।


এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় থেকে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯” এর বিধি ৩৯(১৩) ধারার বিধান অনুযায়ী তার পদটি অপসারন অনুমোদিত হয় এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯” এর বিধি ৩৫(২) ধারা মোতাবেক ৩নং পুটিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য ঘোষনা করেন। মোঃ শাহ্ চান মিয়া (শামীম) একাধিক উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তার আপিল খারিজ করে দেন আদালত।

 


স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এলাকায় যেমন হচ্ছেনা উন্নয়ন মূলক কাজ পাশাপাশি সঠিক সেবা থেকে থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। সাধারন মানুষের মধ্যে দেখা যায় চরম হাহাকার। এলাকার পোল, রাস্তা-ঘাটসহ যে কোন ধরনের উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পুটিখালী ইউনিয়নে বসবাসকারি সাধারন মানুষ। তাদের একটাই দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক সেবা ফিরে আসুক যাতে সাধারন মানুষকে আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

 

এ বিষয়ে ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ও সম্মানী ভাতা বন্ধ থাকায় ইউনিয়নের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কি কারনে আমাদের ভাতা বন্ধ রয়েছে তা আমরা এখনো প্রশাসনের মাধ্যমে পরিস্কার ভাবে জানতে পারিনি।


মহিলা ইউপি সদস্য মোসাঃ দুলালী বেগম বলেন, জনগনের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউপি নির্বাচন করে নির্বাচিত হই। উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জনগনের প্রতিশ্রুতি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়েও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছি। ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচারে আমরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেই। তার অনাস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইউনিয়নের কার্যক্রম অচল হয়।


জনগনের কাছে প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন জবাবদিহিতার সম্মূখীন হতে হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন দিলেও তা তিন বছর ধরে এখনো সমাধান হয়নি। আইনের কি জটিলতা আছে তা আমাদের কাছে পরিস্কার নয়। আমরা দ্রুত এর সঠিক সমাধান চাই। ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কার্যকরের পর থেকেই সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়।


আমরা এলাকার মানুষের কথার কোন জবাব দিতে পারি না। দীর্ঘ দিন ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে ইউপি সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা দ্রুত সুষ্ঠু একটি সমাধান চাই। মোড়েলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড শাহ ই আলম বাচ্চু বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি একাধিকবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেলেও কি কারনে এখনো সমাধান হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। দ্রুত ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রশাসনের বাস্তব পদক্ষেপ কামনা করেন।


এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফায়জুল হক বলেন, বিষয়টি আইনি জটিলতার কারনে আটকে আছে। সাধারন মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ও ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।

সংযুক্ত থাকুন