শনিবার, ০৮ মে ২০২১
Logo
মামালার পর মামলা : চৌগাছার পশু হাট ইজারা দুই বছর বন্ধ

মামালার পর মামলা : চৌগাছার পশু হাট ইজারা দুই বছর বন্ধ


যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পশুহাট নিয়ে আবারও গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। পার্শ¦বর্তী ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি এই চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পশুহাট নিয়ে বারংবার চক্রান্ত করা হলেও পৌর মেয়রের সঠিক দিক নির্দেশনায় হাটটি এখনও বহাল। গরু ব্যবসায়ীসহ হাটের সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন, নতুন করে হাট নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করা হলে চৌগাছাবাসিকে সাথে নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো হবে। যুগযুগ ধরে উপজেলার একমাত্র পশুহাটটি চলে আসছে। ১৯৭৭ সালে থানা গঠনের পর হতে পশুহাটটি চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশে সরকারী ভূমি অফিসের জমিতে বসত। সময়ের ব্যবধানে উপজেলার পরিধি বেড়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ভূমি অফিসের জায়গায় জমি সংকট দেখা দিলে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাটটি স্থানান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। আইন মোতাবেক পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কে কংশারীপুর ঋষিপাড়া সংলগ্ন জমি ক্রয় করে পশুহাট সেখানে স্থানান্ততর করেন। শিল্প কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বপরি সকল মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাট শুক্র ও সোমবারের পরিবর্তে রবি ও বুধবার দিন ধার্য করেন। কিন্তু এতেই বাঁধসাধে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পশুহাট মালিকরা। তারা চৌগাছার একমাত্র পশুহহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন বলে জানান এলাকাবাসি। শুধু তাই না নানাবিধ চক্রান্তে সফল না হয়ে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হয়। তারপরও পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের নেতৃত্বে চৌগাছার আপামর জনতা হাটকে ফিরে পেতে নিরালস ভাবে কাজ করেন। চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রচেষ্ঠায় পুনারায় পশুহাটটি কংশারীপুর নতুন স্থানেই চলতে থাকে। একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার ওই স্বার্থন্বেষী মহল একের পর এক মিথ্যা মামলা করায় দুই বছর ধরে পশুহাটটি সরকারী ভাবে কোন ইজারা হচ্ছেনা। এর ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ হাটে খাস আদায় করেন। পৌরসভা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে তেমনি ভাবে সরকারও মোটা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পশুহাটের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, মহেশপুর উপজেলার গুটি কয়েক ব্যক্তি আমাদের পশুহাট নিয়ে রীতিমত ছিনিমিনি খেলছে। তারা এক জেলার বাসিন্দা আমরা আরেক জেলার। তাদের উপজেলাতে পাঁচটি পশুহাট, সেখানে চৌগাছাতে মাত্র এই একটি পশুহাট। আমরা আমাদের সুবিধা মত কোন দিনে হাট চালাবো সেটি সম্পূর্ণ আমাদের ব্যাপার। অথচ দিন নিয়ে তারা বারংবার আদালতের সরোনাপন্ন হচ্ছে। আমরা তাতে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি। এ বিষয়ে পশুহাটের সাবেক ইজারাদার ডাবলু দেওয়ান বলেন, পশুহাটটি আমাদের এলাকার গরু ব্যবসায়ীদের প্রধানতম হাট। এই হাটে অর্ধশত মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু আদালতে মামলার কারনে দুই বছর ধরে হাট ইজারা বন্ধ। পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, আমরা চৌগাছাবাসির কথা বিবেচনা করে পশুহাট স্থানান্তর ও দিন পরিবর্তন করেছি। আমি মনে করি এটি একান্তই আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। এতে বাঁধসাধে পার্শ¦বর্তী মহেশপুরের কতিপয় ব্যক্তি। তারা একের পর এক মামলা করে হাট ইজারা বন্ধ করে রেখেছে। মহামান্য আদালত বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক পশুহাটের উপর যত মামলা আছে তা দ্রুতই মিমাংসা করে হাটটি ইজারা দানের ব্যবস্থা করবেন।

সংযুক্ত থাকুন