মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
মণিরামপুরে বালু উত্তোলনের মহোৎসব হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাজগঞ্জ বাজার

মণিরামপুরে বালু উত্তোলনের মহোৎসব হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাজগঞ্জ বাজার

মণিরামপুর তথা যশোরাঞ্চলের সব থেকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির ৭৫ বছর পূর্তি বা প্লাটিনাম জুবিলীর অনুষ্ঠান হয়ে গেল।

 

কিন্তু আলো ছড়ানো সেই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমতাধর বালু খেকোদের অত্যাচারে এবার হুমকির মধ্যে পড়েছে, হুমকিতে আছে রাজগঞ্জ বাজারও। কারণ বিদ্যালয় ও রাজগঞ্জ বাজারটি ঝাঁপা বাওড়ের তীরবর্তী হওয়ায় এর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করাই অচিরেই ধাপে ধাপে মাটির স্তর সরে গিয়ে ভাঙ্গনের ফলে এই হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ কোন কিছুরই তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে সেখানে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, স্থানীয় উপজেলার চালুয়াহাটি ও ঝাঁপা ইউনিয়ন যুবলীগের দুই শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

এতে করে পাশেই ঝাঁপা বাওড়ের ভাসমান সেতুসহ তীরসংলগ্ন কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন এমকি রাজগঞ্জ বাজারও চরম ঝুকিতে পড়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে ভূক্তভোগিরা দাবি করেছেন। সরেজমিন গেলে বিশাল আকৃতির ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের চিত্র চোখে পড়ে। বালু উত্তোলনের স্থানের উপরেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহি রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি আবাসিক ভবন। এসময় বালু উত্তোলনের কাজে নিয়জিত শ্রমিক ইমরান হোসেন ও আবুল হোসেন জানান, সাতক্ষীরার তালা থেকে দিনে দুই হাজার টাকায় ভাড়া করে আনা হয়েছে তাদের।

 

তারা গত ১০ দিন ধরে এখান থেকে বালু উত্তোলনের কথা জানিয়ে বলেন, ইমরান খান পান্না ও সোহেল রানা নামের দুই যুবলীগ নেতা তাদেরকে দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। পান্না উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং সোহেল রানা ঝাঁপা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। শুক্রবার এ প্রতিবেদক ভাসমান সেতুর কাছ থেকে মান্না নামের এক নৌকা চালককে নিয়ে বালু উত্তোলনের ছবি তুলে ফেরার পর যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, শিমুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মান্নাকে মারপিট করে নৌকা না চালানোর হুমকি দেয়। জানতে চাইলে নৌকা চালক মান্নার মামা নয়ন হোসেন জানান, ছবি তুলে যাওয়ার পর সোহেল ও শিমুল হোসেন তাদের উপর চড়াও হয়ে মান্নাকে বেদম মারপিট করে। প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে সেখানে নৌকা না চালানোর হুমকিও দেয়া হয়।

 

জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা চড়থাপ্পড়ের কথা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে ভূল বুঝাবুঝি হলে পরে তা নিরসন হয়েছে। অপর যুবলীগ নেতা ইমরান খান পান্না বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবশ্য বিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বালু উত্তোলনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, বাওড়ের মাঝখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে বলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর কোন ক্ষতি হবে না। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ৪ ধারার ৮টি উপধারায় ও ৫ ধারার ৩টি উপধারায় তীর ভাঙ্গন, আবাসিক ভবন, বাধ, সেতু, কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হতে পারে এমন আশংকায় ‘পাম্প বা ড্রেজার মেশিন দিয়ে ‘ভূ-গর্ভস্থ বা তলদেশ হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

কিন্তু এখানে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুিল দেখিয়ে ক্ষমতার দাপটে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তারপরও স্থানীয় অনেকেই এ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আকুতি জানিয়েছেন। জানতে চাইলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পলাশ কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন