শনিবার, ০৮ মে ২০২১
Logo
ব্যাস্ত সময় পার করেছ মাগুরার কৃষাণ-কৃষাণী

ব্যাস্ত সময় পার করেছ মাগুরার কৃষাণ-কৃষাণী

১ হাজার ১শ ৮৫ হেক্টরে রসুন চাষ

কৃষক-কৃষাণীরা এখন মাঠ থেকে রসুন তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ রসুন কৃষক ঘরে তুলেছে এবং বাকী ২০ শতাংশ রসুন ক্ষেত থেকে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাগুরা সদরের বাশঁকোটা, ও শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া মর্কদ্দখোলা, জয়নগর গ্রামে উৎপাদিত রসূন চৈত্রের প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কৃষক-কৃষাণীরা মাঠ থেকে রসুন তুলছেন। কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ১শ ৮৫ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে । তার মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি । চলতি মৌসুমে এবার সদরে ১শ ৮৫ হেক্টর, শালিখায় ১৬০ হেক্টর, মহম্মদপুরে ১শ ৮০ ও শ্রীপুর উপজেলায় ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে ।

এবার রসুনের হেক্টর প্রতি উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯ মেট্রিক টন ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০.১৬৫ মেট্রিক টন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় মাগুরা জেলায় রসুনের আবাদ ভালো হয়েছে । জেলার কৃষকরা সঠিক সময়ে নিয়মিত সার ও সেচ দেওয়ার ফলে রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। এ ব্যাপারে সদরের বাশঁকোটা গ্রামের রতন বিশ্বাস জানান, রসুন চাষে খরচ কম, ফলন ভালো । এবার সে ২ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছে। গত অগ্রহায়ণ মাসে রসুনের বীজ বপন করেন তিনি । বীজ বপনের পর সঠিক সময়ে সার, কীটনাশক ও সেচ দেয়।

রসুনের চারা বের হলে জমিতে পরিচর্যা করে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে রসুন পরিপূর্ণ হলে জমি থেকে উত্তোলন শুরু করা হয়। বর্তমানে ২ বিঘা জমির ৭০ শতাংশ রসুন উত্তোলন প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি ৩০ শতাংশ রসুন উত্তোলন ২ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় রসুনের ফলন ভালো হয়েছে । এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে । এখন প্রতি মণ রসুন ১৫শ’ টাকা থেকে ১৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা রাখছি এবার লাভবান হবেন । শ্রীপুর উপজেলার মর্কদ্দখোলা রসুন চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, সে ১ বিঘা জমিতে রসুনের চাষ করেছে । এবার রসুনের ফলন খুবই ভালো ।

এ চাষে খরচ কম ,লাভ বেশি । এবার তাদের গ্রামের অনেক চাষী রসুনের আবাদ করেছেন । আবহাওয়া ভালো থাকায় তারা রসুনের ফলন ভালো পেয়েছে । জেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন, মসলা জাতীয় ফসল রসুনের আবাদ জেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । এ চাষে জেলার কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে । পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের এ ফসলের মান বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ থেকে নানা ধরনের সহযোগীতা করা হয়ে থাকে।

সংযুক্ত থাকুন