বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
ব্যবসায়ীদের লুকোচুরি : স্বাস্থ্যবিধি লংঘন : প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

ব্যবসায়ীদের লুকোচুরি : স্বাস্থ্যবিধি লংঘন : প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

যশোর ও নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধের প্রথম দিন

করোনা সংক্রমণ ও ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বিস্তার রোধে নওয়াপাড়া পৌরসভা ও যশোর পৌরসভা এলাকায় ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১৬ জুন বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১২টি শর্ত দিয়ে পৌর এলাকার সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। সরকারি নির্দেশনার শর্তগুলো দৈনিক নওয়াপাড়ায় প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও উভয় পৌরসভা এলাকায় ব্যবসায়ীরা দিনভর লুকোচুরী খেলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনিহা অনেকের। মাস্ক পরলে দম বন্ধ লাগে এমন খোঁড়া অজুহাতও শোনা গেছে কারও কারও মুখে। যদিও উভয় পৌর এলাকায় প্রশাসনের অবস্থান ছিলো চোখে পড়ার মতো। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার কঠোর বিধি-নিষেধের প্রথম দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলেও প্রশাসন ছিল তৎপর। করোনা সংক্রমণের সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের গুরত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় কঠোর অবস্থানে ছিল উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও অভয়নগর থানা পুলিশ। তবে এর মধ্যেও অনিয়মের খেলা খেলেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রীবাহী বিভিন্ন পরিবহন ও সাধারণ জনগণ। সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে বা থানা পুলিশ যেখানে অবস্থান করছে সেখানে বিধি-নিষেধ মানা হচ্ছে। তারা চলে গেলে সেই পূর্বের অবস্থা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে, মোটরসাইকেলে ১ জনের পরিবর্তে তিনজন, তিনচাকা জাতীয় যানবাহনে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। চায়ের দোকান ও হোটেলে ক্রেতাদের বসিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক না থাকলেও পকেটে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা যেন প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলা খেলছে। তবে যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। অপরদিকে শ্রমিক পরিবহনের বাসে নিয়ম না মেনে শ্রমিকবহন করতে দেখা গেছে। বিধি-নিষেধের প্রথম দিনে মোটরসাইকেলের উপর কঠোর নজরদারী বা মামলা করতে দেখা গেছে যশোর জেলা ট্রাফিক পুলিশের। এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র ও অভয়নগর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্ত জানান, করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে পৌর এলাকায় ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও করোনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ নজরদারী করছে। জনসচেতনা বাড়াতে প্রচার মাইক পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করছে। তিনি ৭ দিনের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর বিধি-নিষেধ পালনে পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন- ঘরে থাকুন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না। অবশ্যই মাস্ক ব্যবস্থার করবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান জানান, করোনা সংক্রমণ ও ডেল্টা ভেরিয়েন্ট বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক কাজ করে চলেছে। সচেতনতা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনিয়ম ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছে। নিজে এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষা করতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। ঊর্ধ্বমুখী এ হার রুখতে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিধিনিষেধের প্রথম দিন প্রশাসন থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যশোর পৌর এলাকায় ১৩টি ফিডার রোড এই দিনগুলোর জন্য বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা রোড (বারান্দিপাড়া), ডিআইজি রোড, পলিটেকনিক রোড, ঘোপ বাবলা তলা, পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড বাইলেন, পুরাতন কসবা লিচু তলা রোড, ধর্মতলা মোড়, চাঁচড়া বাজার, যশোর কলেজ রোড, সন্যাসি দিঘির পাড়, শংকরপুর বটতলা, শংকরপুর বাবলা তলা ও বেজতলা মেইন রোড, বিআরটিএ অফিসের সামনের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, যশোর শহরে দশটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই, চারজন কনস্টেবল ও দুজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এসব চেকপোস্ট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাবেরও একটি টিমও মাঠে রয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন