মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
বাঘারপাড়ায় মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের তালিকায় অনিয়ম

বাঘারপাড়ায় মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের তালিকায় অনিয়ম

যশোরের বাঘারপাড়ায় মাতৃত্বকালিন ভাতাভোগিদের ব্যাংক হিসাব খোলার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চলতি ভাতাভোগীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও রয়েছে জোড়াতালির অভিযোগ।

 

পূর্বে ভাতাভোগ করা ব্যক্তিকেও আবার নতুন তালিকায় আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ রায়পুর ইউনিয়নের সচিব আব্দুল আলিম ও রায়পুর ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ৪৫ জনের ব্যাংক হিসাব খোলা হয় রায়পুর বাজারে ডাচ বাংলা এজেন্টের মাধ্যমে।

 

ব্যাংক হিসাব খোলার নামে প্রতি ভাতাভোগীদের কাছ থেকে ৩’শ টাকা করে আদায় করা হয়। আর এসব অর্থ এজেন্টের মাধ্যমে যোগসাজশ করে ইউনিয়ন পরিষদ কিছু অংশ হাতিয়ে নিয়েছেন। আদায়কৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব ও একটা চক্রের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি মাতৃত্বকাল ভাতাভোগীদের চুড়ান্ত তালিকার ২১ নাম্বার ব্যক্তি এর আগেও ভাতা ভোগ করেছেন।

 

আবার বর্তমান তালিকায়ও তার নাম রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তি বর্তমান প্রতিবন্ধি ভাতাভোগী বলেও জানা গেছে। তালিকার ৪৩ নাম্বার ভাতাভোগী ইউনিয়নের একজন সম্ভ্রান্ত ও ধণী পরিবারের গৃহিণী। অথচ তাকেও ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। ইউপি সচিব আলিমের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো একাধিক অভিযোগ।

 

চলতি মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের চুড়ান্ত তালিকার একাধিক ব্যক্তির টিকা কার্ডে রয়েছে জোড়াতালির ছাপ। ভুয়া কার্ড বানিয়ে তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। রায়পুর ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের হিসাব খোলার জন্য ৩শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তাদের টাকা তাদের হিসাবে রাখা হবে।

 

একাধিক ভাতাভোগীরা জানিয়েছেন, হিসাব খোলার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রায়পুর ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক থেকে হিসাব খোলার জন্য বলা হয়। সেখানে হিসাব খুলতে গেলে ৩শ’ টাকা জমা দিতে হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, কোনো ভাতাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি।

 

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেনি। সদ্য বিদায়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল জানিয়েছেন, হিসাব খোলা বাবদ ভাতাভোগীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। ভাতাভোগীতে অসংঙ্গতি পেলে বর্তমান কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিবেন।

 

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি জানতে পরিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংযুক্ত থাকুন