বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
বসুন্দিয়ায় দুর্ভোগের নাম ঘোপের ডাঙ্গার কাঠের সেতু

বসুন্দিয়ায় দুর্ভোগের নাম ঘোপের ডাঙ্গার কাঠের সেতু

যশোর জেলার সদর উপজেলার বসুন্দিয়া’য় ঘোপেরডাঙ্গার চলাচলের কাঠের সেতুটি গলার কাটা হয়ে বিঁধে রয়েছে। শত বছরেও দৃষ্যমান হয়নি জননেতা-জনসেবকদের ৫/৬ ডজন প্রতিশ্রুতি।

 

স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ আর জীবনযাপণ করতে শত শতবার গ্রামবাসীর চাদার টাকায় তৈরী ও মেরামত হতে হতে শত বছরেও অবসান হয়নি নদী পারাপারের যন্ত্রণার। অসংখ্য অঙ্গীকার, আশ্বাস এবং প্রতিক্ষার শেষ কোথায় এই জিজ্ঞাসা সমগ্র ঘোপেরডাঙ্গা জনপদের সর্বসাধারণের।

 

দল-মত আর বর্ণ বিভেদ ভুলে এখানকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের স্বার্থে এখন একাট্টা। নদী বেষ্ঠিত ঘোপেরডাঙ্গার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে যাতায়াত ও যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে গেলে তারা জানান, আমরা শত বছর ধরে অবহেলিত, বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্থ। আমরা যেন অধিকার বঞ্চিত পরাধীন জনপদে বসবাস করছি।

 

সরকারি ও রাজনৈতিক নেতাদের বছরের পর বছর ধরে সেতুটি পাকা করে স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি যেন নাটকীয় তামাশা। মনে হয় আমাদের ঘোপেরডাঙ্গার কোন অভিভাবক নেই। অসুস্থ্যতা ও জরুরী প্রয়োজনে একটি এ্যাম্বুলেন্সও গ্রামে প্রবেশের সুবিধাজনক রাস্তা নেই।

 

গ্রামবাসী আরও জানান, সেতুটি যখন খুইব নড়বড়ে হয়ে পড়ে তখন প্রতিদিন কয়েকজন ব্যক্তি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে স্কুলে যাতায়াতের সময় কাঁধে চড়িয়ে নদী পার করেন। তারা দূঃখভরে আরও জানান, ঘোপেরডাঙ্গার ছেলে বা মেয়ের বিবাহের সময় যাতায়াতের দুরাবস্থার কারণে ভালো কোনও পাত্র/পাত্রী পক্ষ আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় না।

 

অবহেলিত এ গ্রামবাসী আরও জানান, সর্বশেষ সংস্কার কাজে স্বেচ্ছাশ্রম চাড়াই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডটি জঙ্গলবাঁধাল ও ঘোপেরডাঙ্গা গ্রাম দুটির সমন্বয়ে। দুটি গ্রামের মাঝের সেতুটিই ঘোপেরডাঙ্গাবাসীর একমাত্র যাতায়াত ও যোগাযোগের উপায়।

 

৮শত মানুষের বসবাসের গ্রামের সেতুটি পাকা বা যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলে জনসাধারণের এই দূর্ভোগ পোহাতে হতনা। সেতুটি পাকা হলে খুবই স্বল্প সময়ে বসুন্দিয়া মোড় কিংবা বসুন্দিয়া বাজারে পৌছানো সম্ভব হতো। লাঘব হত ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার বহুমূখী দূর্দশা।

 

বর্ষা মৌসুমে একদিকে মাটির রাস্তায় কাঁদা অন্যদিকে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে চাঁদার টাকায় তেরি বাঁশ ও কাঠের ভঙ্গুর সেতু। একবার সংস্কার করলে যা দুই থেকে আড়াই মাসের বেশি স্থায়ী হয়না।

 

ঘোপের ডাঙ্গায় প্রয়োজনীয় স্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠান নাই অন্যদিকে জঙ্গলবাঁধাল গ্রামটিতে রয়েছে একটি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ঐতিহ্যবাহী কিন্ডার গার্টেন স্কুল, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি ভূমি অফিস, একটি ডাকঘর, রেলওয়ে স্টেশন ও একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সব মিলিয়ে এটি একটি আধুনিক গ্রাম।

 

ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও নিত্য প্রয়োজনীয়ন সামগ্রীর জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নড়বড়ে সেতু পার হয়ে যেতে হয় জঙ্গলবাঁধাল গ্রামে ও বসুন্দিয়া মোড়ে। সেতুটি মজবুত না হওয়ায় ক্ষেতে উৎপাদিত কাঁচা-পাকা ফসলী সামগ্রী নিয়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে ঘুনি-বাগডাঙ্গা হয়ে যেতে হয় বসুন্দিয়া বাজারে, নয়তো ৪ কিলোমিটার ঘুরে ঘুণি-দোলনঘাটা হয়ে বসুন্দিয়া মোড়ে।

 

কতদিনে হবে এর উন্নয়ন? কবে পড়বে সুদৃষ্টি? কবে পাবে এদূর্দশার পরিত্রাণ? কবে পাবে সরকারি হস্তক্ষেপ? রয়েছে আরও এমন অনেক জিজ্ঞাসা।

সংযুক্ত থাকুন