বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায় বেনাপোল বন্দরের ১শ’ ২০টি পরিবার

বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায় বেনাপোল বন্দরের ১শ’ ২০টি পরিবার

আবেদন করেও কোন ফল হচ্ছে না

বন্দিজীবন দশা থেকে রক্ষা পেতে চায় বেনাপোল বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালের পশ্চিম পার্শ্বে বসবাসরত ১২০ টি পরিবার। অভিযোগ রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনায় এই পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।

 

২০০৭ সালের ১১ই নভেম্বরের আগে এই জায়গাটি ছিলো মানুষের বসবাসের ঘনবসতি এলাকা। বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরকে সু-রক্ষিত রাখার জন্য গ্রামের দু’পাশ দিয়ে নির্মান করেছে পাকা প্রাচীর। আটকা পড়ে যায় গ্রামের শতশত পরিবার।

 

অনেকেই গ্রাম ছেলে চলে যায় অন্যত্র। থেকে যায় ১২০টি নিরুপায় অসহায় পরিবার। পরে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের বাঁধার মুখেও নিজেরা বন্দিদশা থেকে বাঁচতে নির্মিত প্রাচীরের কয়েক জায়গায় ভেঙে যাতয়াতের করে। সে ক্ষেত্রে অসুস্থ্য রোগী ও স্কুলগামী ছোট শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই।

 

তাছাড়া রাত হলেই শুরু হয় ভারত থেকে আমদানীকৃত লোহা ও লৌহ জাতীয় পণ্যের আনলোডের বিকট শব্দ। শব্দের কম্পন শুরু হয় সারা এলাকা জুড়ে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও ছোট শিশুরা থাকে আতংকে। তাছাড়া বর্ষায় এসিড মিশ্রিত পানি গিয়ে ঢুকে পড়ে বাড়িতে।

 

এলাকাবাসী কয়েকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক ভাবে বিষয়টির সমাধান চেয়ে মানবিক আবেদন করলেও অদ্যবধি কোন সমাধান আসেনি। তাছাড়া বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে প্রাচীর সরিয়ে রাস্তা করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

 

এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বন্দি বসবাসকারীদের পক্ষে তাদের আশু সমাধান চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করলেও তার কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। কবে নাগাদ সমাধান হবে তাও নিশ্চিত জানেন না তারা। তাছাড়া বন্দরের পার্শ্ববতি বসবাসকারী ইসরাইল সর্দারের বাড়ীর পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চ রেডিয়েশন সম্পন্ন আমদানী-রপ্তানী পন্য পরীক্ষার স্ক্যানিং মেশিন।

 

আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকের ইঞ্জিনের কালো ধুয়ায় বায়ু দূষন তো নিত্য দিনের ঘটনা। বন্দরের পাশে বসবাসকারী বদরউদ্দিন জানান, আমাদের অধিকাংশের বাড়ি ঘড়ের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়তে শুরু করেছে।

 

শব্দদূষন, এসিড ও কেমিকেল জাতীয় পন্যের কারণে অধিকাংশ মানুষ অসুস্থ হয়ে পেড়েছে। অনেকেই নান জটিল কঠিন রোগে অক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী। ভুক্তভোগী ইসরাইল সর্দার জানান, এলাকার কোন বাড়ীতে এখন আর ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না। অনেকে বাড়িঘড় ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

 

জনস্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে বন্দরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই এলাকাটি অধিগ্রহন করলে সকল সমস্যার সমাধান হবে নিশ্চিত। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহম্মাদ ইউসুফ আলী জানান, বন্দরের ভারতীয় ট্রৃাক টার্মিনালের পার্শ্ববতী এলাকায় বসবাসরত মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। রাতে শব্দদূষন ও কম্পন চলতে থাকলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বে।

 

যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, বন্দি বসবাসকারী জনগন এবং ঐ এলাকায় পরিবেশ শব্দ ও পরিবেষ দূষন হচ্ছে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে।

 

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, এলাকাবাসীর সমস্যা ও অভিযোগ আমরা ইতিমধ্যে আবেদনের মাধ্যমে পেয়েছি। বিষয়টি বন্দরের উর্দ্ধতন কতৃপর্ক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসী তাদের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেতে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন