শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
Logo
ফুলের রাজধানী ঝিকরগাছায় করোনার ধাক্কা : চাহিদামত বিক্রি হচ্ছেনা ফুল

ফুলের রাজধানী ঝিকরগাছায় করোনার ধাক্কা : চাহিদামত বিক্রি হচ্ছেনা ফুল

যশোরের ঝিকরগাছায় ফুলের রাজধানীতে করোনার ধাক্কা লেগেছে। যেকারণে চাহিদামত ফুল বিক্রি হচ্ছে না। চাষিদের ফুল উৎপাদন হলেই সেই উৎপাদিত ফুল হচ্ছে নষ্ট। এতে করে দু:চিন্তায় পড়েছে তারা।

 

তাছাড়া ক্রেতার আনাগোনা পাওয়া যাচ্ছে না ফুল মার্কেটে, ক্রমাগতই উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও চাহিদার জন্য গ্রাহকের উপস্থিতি অতিসামান্য।

 

এবারের আসন্ন বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ফুল চাষিরা মহাব্যস্ত সময় পার করলেও চলতি বছরে তাদের মধ্যে থাকছে না কোন প্রকার টার্গেট।

 

এখন ক্ষেত থেকে সময়মত পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। তবে মৌসুমে এ চার দিবসে গতবছর ফুলসমিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭০-৮০ কোটি টাকা। তবে বিক্রি হয়ে ছিলো প্রায় ৭০ কোটি টাকা।

 

কিন্তু চলতি বছরের মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরোয়া পরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় চলতি বছরে চাষিদের পক্ষে কোন প্রকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভয় নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। তবুও বসে নেই ফুলচাষিরা, দিন-রাত ফুল বাগানের পরিচর্যা করে চলেছে।

 

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গদখালির চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহের আশায়! ফুলের রাজ্য গদখালি ও পানিসার ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে শুধু ফুল আর ফুল।

 

সেখানে বিভিন্ন ধরণের জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা হাতছানি দিয়ে ডাকছে মায়া ভরা প্রকৃতিকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেতেই চাষিরা ফুলের গাছ পরিচর্যায় মগ্ন হয়ে সময় পার করছে। এখানে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়।

 

তারা সব সময় বসে বসে সময় পার করে কিন্তু বছরের প্রথমে তিন-চারটি উৎসবকে ঘিরে এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। ফুল চাষি নজরুল ইসলাম খোকন ও আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফুলের ভরা মৌসুমে আমাদের নাওয়া-খাওয়া থাকে না।

 

তবে তুলনামূলক ফুলের চাহিদা ও দাম এখন একটু কম। হচ্ছে না ফুল বিক্রি, ফলে আমাদের উৎপাদিত ফুল হচ্ছে নষ্ট। ১ বিঘা গোলাপ ও ২ বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করে বর্তমানে কোন প্রকার ফুল বিক্রি হচ্ছে না। পহেলা বৈশাখে ফুলের চাহিদা হতে পারে বলে মনে করে ফুল উৎপান করছি। তারা আরো বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপনে প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়।

 

৪ হাজার চারার দাম প্রায় ৬০-৭০হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরও ৬০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার রোপনে ৪-৫ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়। স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, ভালবাসা দিবসে ফুল বিক্রি বেশি হয়। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। কৃষকরাও দাম ভালো পায়।

 

প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে আমরা আশাবাদি। তবে করোনাকালীন সময়ে বর্তমানে আমাদের পুঁজিবাচানো দায় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় ৬ হাজার কৃষক আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ পরিচালনা করে।

 

গতবছর বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধিনতা দিবসে গদখালী এলাকার কৃষকরা ৭০-৮০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষিরা ৭০কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেন। তবে বর্তমান করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরোয়া পরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় চলতে বছরে চাষিদের পক্ষ হতে কোনপ্রকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারচ্ছে না।

 

তবে ফুলচাষীরা এবারও ভাল ফুল উৎপাদন করেছে। আমি আশাকরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরোয়া পরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক দেশের সাথে যোগাযোগ চালু হলে চাষিরা তাদের ফুলের অনেক ভালো মূল্য পাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান জানান, এই অঞ্চলের ফুল চাষীদের জন্য সরকার ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন।

 

সরকারের পক্ষ থেকে ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ও ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়াও ইতিমধ্যে তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদেরকে সল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন