শনিবার, ০৮ মে ২০২১
Logo
প্রত্মতত্ত্ব অফিসের গড়িমশি : ১৫ মাস ধরে ঝুলে আছে কেশবপুরের ঐতিহাসিক কামানের প্রতিবেদন

প্রত্মতত্ত্ব অফিসের গড়িমশি : ১৫ মাস ধরে ঝুলে আছে কেশবপুরের ঐতিহাসিক কামানের প্রতিবেদন

প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের গড়িমশির কারনে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে ঝুলে আছে কেশবপুরের মির্জানগর নবাববাড়ী-হাম্মাম খানার ঐতিহাসিক কামানের তদন্ত, মতামত ও প্রতিবেদন। গত ১৯ নভেম্বর-২০১৯ তারিখ দৈনিক নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় “সেই কামানটি কেশবপুরে ফিরিয়ে আনার দাবি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।


উক্ত সংবাদটি সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টিগোছর হয়। যার ফলে ঐতিহাসিক ঐ কামানের বিষয় নিয়ে সার্বিক মতামত ও প্রকৃত ঘটনার প্রতিবেদন চেয়ে সংষ্কৃতি মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব নাদিরা সুলতানা স্বাক্ষরিত একটি স্বারক গত ৭ জানুয়ারী-১৯ তারিখ ঢাকা আগরগাঁও প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরন করা হয়। যার স্বরক নং- ৪৩.০০.০০০০.১১৪.০১৭.১৮২.১৭-১১। প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঐতিহাসিক কামানের বিষয়ে সঠিক প্রতিবেদন প্রদানের দায়িত্ব দেন প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় রেজোনাল ডাইরেক্টর (আর.ডি) আফরোজা খাঁন মিতাকে।


দীর্ঘ ১৫ মাস তদন্ত স্বারকটি খুলনা আর.ডি অফিসে পড়ে থাকলে কর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারনে কেশবপুরের মির্জানগর নবাববাড়ীর ঐতিহাসিক কামানের বিষয়ে আজ অবদি কোন তদন্ত হয়নি। এ বিষয়ে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় রেজোনাল ডাইরেক্টর (আর.ডি) আফরোজা খাঁন মিতা কেশবপুরের মির্জানগর নবাববাড়ীর ঐতিহাসিক কামানের বিষয়ে তদন্তের স্বারক হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজের চাপের কারনে কামানের বিষয়টি তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।


এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসক ড. তমিজুল ইসলাম ও কেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম.এম আরাফাত হোসেন একমত পোষন করে বলেন, যেহেতু এটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিষয়। তার পরও এই অধিদপ্তরের কোন বিষয়ে অবিহিত করলে তাদের পাশে থেকে সর্বাত্বক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করব।


উল্লেখ্য, মুঘল আমলে তৈরী যশোরের কেশবপুরের মির্জানগর নবাববাড়ীসহ হাম্মামখাটি বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে বৃহত্তর যশোর জেলার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ নবাববাড়ি। এখানে দু’টি কামান ও চারদিকে পরিখা খনন করে অত্যন্ত সুরক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল এ স্থাপনা। কালের বিবর্তনে দু’টি কামানের একটি বর্তমান যশোর জেলা শহরের মণিহার মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা বিজয়স্তম্ভে স্থাপন করা হয়েছে। আরেকটির কোন হদিস জানা যায়নি। নবাববাড়ির অন্যতম প্রততাত্ত্বিক নিদর্শন ঐতিহাসিক এ কামানটি সরিয়ে পুনরায় মির্জানগর নবাববাড়ীতে প্রতিস্থাপন করলে ইতিহাসের যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে বলে অনেক দর্শনার্থীরা মনে করেন। ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় বরাবর আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংযুক্ত থাকুন