শনিবার, ০৮ মে ২০২১
Logo
পিআইও-প্রাচী কান্ডে বিব্রত অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন

পিআইও-প্রাচী কান্ডে বিব্রত অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন

সম্প্রতি অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার কর্মকা-ে বিব্রত হয়ে পড়েছে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


তারা একদিকে যেমন একজন নারী কর্মকর্তার সাথে পিআইও এর অশোভন আচরণ মেনে নিতে পারছেননা তেমনি অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীর করা অভিযোগও মানতে পারছেন না কেউ।


তাদের অভিযোগ, উত্তরা শতুদ্রƒ প্রাচীর সাথে পিআইও যে ভাষায় কথা বলেছেন তা অনিভ্রেপত, নিন্দনীয় ও একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


তবে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে এবং নিজের দূর্বলতা আড়াল করতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে যৌণ নিপীড়নের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা শিষ্টাচার লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


একই সাথে সূর মিলিয়ে উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত সকল নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এমন অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সাথে সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতাদ্র প্রাচীর বিরুদ্ধে সরকারি আচরণ বিধি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা এ সহকারী প্রোগ্রামারকে ডোন্ট কেয়ার কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, উত্তরা শতাদ্রƒ প্রাচী নিজের ইচ্ছেমত কাজ করেন। ইচ্ছে হলে অফিসে আসেন না হলে আসেন না।

 

তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার তোয়াক্কা করেন না। আর এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেলেই যৌণ নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নাস্তানাবুদ করতে উদ্ধত হন। উপজেলা প্রশাসনের নারী কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারী এ সময় দাবি করেন, উত্তরা শতাদ্র প্রাচী তার পূর্বের কর্মস্থল বাগেরহাটের মোংলায়ও এমন কা- বাধিয়ে বদলি হন।


প্রাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অভয়নগর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকতেন। অনুপস্থিত থাকার কারণে নোটিশ প্রদান করলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করেন নিপীড়নের অভিযোগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডরিলিজ হয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেল। এবং তদন্ত শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁনের বিরুদ্ধে। পিআইও’র কর্মকান্ডে বিব্রত উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ মেনে নিতে পারছেনা তারা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে তৎকালিন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান জয়পুরহাট জেলা এডিসি (রাজস্ব) মো. রাহাত মান্নান কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।


প্রথম নোটিশ ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট, যারস্মারক নং-৬০৭। দ্বিতীয়টি একই বছরের ১৪ অক্টোবর। যার স্মারক নং-৭৮৯। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। আটতে থাকেন ষড়যন্ত্র। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পূর্বেই বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদের সহযোগিতায় তাঁকে বদলি করা হয় ঢাকা আগারগাঁও আইটি কার্যালয়ে।


পরবর্তীতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে অভয়নগরে যোগদান করেন উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। যোগদানের পর থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় সময় কর্মস্থলে থাকতেন অনুপস্থিত। সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে বার বার মৌখিকভাবে শতর্কের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন। এবং যথা সময় কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে বিধি মোতাবেক কার্যক্রম করার নির্দেশনা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী প্রোগ্রামার (এপি) গত ২২ ডিসেম্বর কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।


অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাতটি বিষয় তুলে ধরেন। পরবর্তীতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মো. রুবেলকে ক্লোজড করা হয়।


যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী কর্মকতার বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত। অপরদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর নারী কর্মকর্তার (এপি) বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাল্টা অভিযোগ করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর।


জানা গেছে, উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় উশৃঙ্খলতার কারণে বহিস্কৃত হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতে চলে যান।


সার্বিক বিষয়ে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর লেখাপড়া করেছি। বহিস্কৃত হইনি। স্কলারশিপ নিয়ে ভারতে যায়। মোংলা ও অভয়নগর উপজেলায় থাকাকালিন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।


অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।


এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও সরকারি কাজে অসহযোগিতা করতেন সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। আমার সামনে ইউএনও তাকে বার বার মৌখিকভাবে শতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন।


কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সরকারি কাজে অসহযোগিতা ও নোটিশ প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী ইউএনও’র বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনৈতিক অভিযোগ করেছেন। এদিকে ইউএনও নাজমুল হুসেঈন খানের বিরুদ্ধে এহেন অনৈতিক অভিযোগ উত্থাপন করায় উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা লিখিতভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


এ সময় উপজেলা প্রশাসনের নারী কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা প্রশাসনের যাবতীয় কাজে ইউএনও’র সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন। তারা ইউএনওকে সৎ ও সজ্জন বলে দাবি করেন।

সংযুক্ত থাকুন