মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
পায়ের আঘাতেই উঠে যাচ্ছে মণিরামপুরে কোটি টাকার রাস্তার কার্পেটিং

পায়ের আঘাতেই উঠে যাচ্ছে মণিরামপুরে কোটি টাকার রাস্তার কার্পেটিং

অনিয়মের অভিযোগ কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে, কাজ শেষ হওয়ার ৪ দিন পার হলেও জমাট বাঁধেনি পাথর

মণিরামপুরে আলোচিত-সমালোচিত পুকুর খনন নিয়ে পুকুর চুরির পর এবার সেই কৃষকলীগ নেতা আবুল ইসলামের বিরুদ্ধে সড়ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

 

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপিকান্তপুর-ঘিবা গ্রামে প্রায় এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মানে কার্পেটিং করার চার দিন পার হলেও পাথর-বিটুমিন জমাট বাঁধছে না। উপরোন্ত একটু আঘাতেই পিচ-পাথর উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।


কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আনিছুজ্জাামান জানান, পুনরায় কাজ ভালভাবে সম্পন্ন না করলে কোন বিল ছাড় করা হবে না।

 

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাগেছে, বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের ( এজেআরআরআইডিপি) আওতায় ২০১৯ সালে দরপত্র আহবান করা হয়। সে মোতাবেক যশোর চাচড়া চেকপোস্ট এলাকার মেসার্স সজল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার প্রাক্কলনের কাজটি এক কোটি ৫৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বরে কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট।

 

কিন্তু কাজ না করেই বার বার সময় নিয়ে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল কার্পেটিং-এর কাজের শেষ করা হয়। অবশ্য সাব-কন্ট্রাক্টে এ কাজ বাস্তবায়ন করেন উপজেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল ইসলাম। এই নেতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একই এলাকায় দু’টি পুকুর খনন নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মেসার্স সজল এন্টাপ্রাইজের কর্ণধার মোঃ সেলিম হোসেন জানান, তার লাইসেন্সে কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন মণিরামপুরের কৃষকলীগ নেতা আবুল ইসলাম।

 

বিষয়টি সম্পর্কে তিনিই ভাল বলতে পারবেন। সরেজমিন গেলে দেখা যায়, সড়কে সামান্য পায়ের আঘাতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। জানা যায়, সাধারনত ১৬০/১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বিটুমিন-পাথরের মিশ্রনে কার্পেটিং করার কথা।


কিন্তু বিটুমিন সাশ্রয় ও বেশি লাভের আশায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অধিক তাপমাত্রায় কার্পেটিং-এর কাজ করায় ওই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এছাড়া বেজ, সাববেজ, ম্যাকাডামেও নি¤œমানের ইটের খোয়া, বালু ব্যবহার ছাড়াও নিয়মমত পরিমাপ দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আবুল ইসলাম বলেন, সড়কের পিচ উঠে যাবার বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই।

 

স্থানীয় আব্দুল লতিফ নামের এক বয়োবৃদ্ধ ক্ষোভ করে বলেন, ‘ভাল কাজ হবে এই আশায় ঠিকাদারকে রাস্তার কাজের সময় একটি টাকাও বাড়তি খরচ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন পিচ যেভাবে উঠে যাচ্ছে তাতে রাস্তা ১/২ মাসও যাবে না বলে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন। কাজটি তদাকির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাক আলী মোর্তুজা।

 

তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে দহরম মহরমের কারনে কাজের সময় উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন ঘটনা তার জানা নেই। তিনি কালই (মঙ্গলবার) পরিদর্শনে যাবেন।

 

নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আনিছুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি দেখেছেন, কাজ মানসম্মত ভাবে না করা পর্যন্ত কোন বিল ছাড় করা হবে না।

সংযুক্ত থাকুন