বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
পাইকগাছা-কয়রা সড়কের শিবসা-চাঁদআলী সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

পাইকগাছা-কয়রা সড়কের শিবসা-চাঁদআলী সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

পাইকগাছা-কয়রা সড়কে শিবসা সেতু ও চাঁদআলী সংযোগ সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারদারের লোকজন গাড়ী চালকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টাকা আদায় করণে।

 

এই অতিরিক্ত টাকা না দিতে চাইলে চালকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে ওই পথে যাতায়াতকারী যান চালকরা প্রায় সময় অভিযোগ করে থাকে। যান চালকরা এই অতিরিক্ত টোল আদায় করাকে চাঁদা আদায়ের সামিল বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

 

জানা যায়, বেতগ্রাম-তালা-পাইগাছা-কয়রা সড়কের ৩৩তম কিলোমিটার এ শিবসা সেতু অবস্থিত যার দৈর্ঘ্য ৩৪৬.৭৬ এবং ৫১তম কিলোমিটারে কয়রা চাঁদআলী সেতু অবস্থিত, যার দৈর্ঘ্য ২২৩.৪৬।

 

২০১৯ সালে মেসার্স নেহা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ বছরের জন্য পাইকগাছার শিবসা সেতুর ইজারা নেয়। বর্তমান নেহা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি মো. আনারুল ইসলাম তার লোকজন দিয়ে টোল আদায় করছেন। আর কয়রা চাঁদআলী সেতুর ইজারা আদায় করে মো: মিনারুল ইসলাম সানা’র লোকজন। যান চালকের অভিযোগ, এই সেতুতে অটো রিকসা ও মটরসাইকেল, নাছিমন সিএনজির জন্য ৫টাকা টোল ধার্য থাকলেও তাদের কাছ থেকে প্রতিবার ১০টাকা ও লোড বেশি থাকলে আরও বেশি টাকা আদায় করা হয়।

 

কয়রা উপজেলার কাদের ঢালীর ছেলে কামরুল ইসলাম বলেন, পাইকগাছা থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় শিবসা সেতুতে ১০টাকা ও চাঁদআলী সেতুতে ১০টাকা করে নেয়। স্লিপ চাইলে ৫টাকার একটি স্লিপ দেয়া। আর না চাইলে কোন স্লিপ দেয়না। আর স্লিপ বা রশিদ দিলেও তাতে কোন আদায়কারীর স্বাক্ষর থাকেনা।

 

প্রদীপন সমিতির নওয়াপাড়া শাখার কর্মকর্তা অসিম কুমার ঘোষ জানায়, আমি অনেক বার এই সেতু দিয়ে পার হয়েছি, প্রতিবার ১০টাকা করে দিয়েছি কিন্তু টোল আদায়কারীরা আমাকে কোন দিন রশিদ দেয়নি।

 

ওই সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী যান চালকরা জানিয়েছে, কোন যানের কত টোল এ সম্পর্কিত একটি চার্ট সেতুর টোল ঘরের এক পাশে টানানো থাকলেও তা মানা হয় না। চার্টে নিধারিত মূল্য তালিকার চেয়ে দুই তিন গুন বেশি টাকা করা হয়।

 

এ অতিরিক্ত টোল আদায় করতে গাড়ী চালকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে টোল আদায়কারীরা। রফিকুল ইসলাম নামে একজন পিকআপ চালক অভিযোগ করেন চার্টের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী তার টোল দেয়ার কথা ২০টাকা। অথচ তার কাছ থেকে জোর করে ১শ’ টাকা নেয়া হয়েছে।

 

অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে তার সাথে অনেক খারাপ আচারণ করেছে বলেও সে জানায়। রশিদ চাইলে দিচ্ছে না। এটা এক প্রকার চাঁদাবাজি বলে মন্তব্য করেন তিনি।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আদায়কারী বলেন, এলাকার বাইরে থেকে কোন যানবহন আসলে তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামত টোল আদায় করা হয়। ট্রাক ও বাসে ২শ’ ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদআলী সেতুর ইজাদার মো: মিনারুল ইসলাম সানা বলেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে কোন অতিরিক্ত টোল আদায় করা হয়না। আমার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে বললে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তো কোন টোল নেয়া হয়না। শিবসা সেতুর ইজাদার আনারুল ইসলাম দম্ভের সাথে বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়না।

 

এব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোন ডকুমেন্ট থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে খুলনা সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ওই দুই সেতুর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি।

 

ঘটনাস্থলে গেলে কেউ স্বীকার করেনা। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দিত তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হত। আর আপনি যেহেতু বিষয়টি আমাকে জানালেন আমি বিষয়টি দেখবো। ‘পরে রাত ১০.১০ মিনিটে শিবসা সেতুর ইজাদার আনারুল ইসলাম ফোন করে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান এবং আর অতিরিক্ত টোল আদায় করবেনা বলে বার বার মুচলেকা দিতে থাকেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’

 

সংযুক্ত থাকুন