বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
পাইকগাছায় স্ত্রীকে উচ্চশিক্ষিত করে নিজের স্বপ্নপূরণ করছেন নিরক্ষর ভ্যানচালক জামাল

পাইকগাছায় স্ত্রীকে উচ্চশিক্ষিত করে নিজের স্বপ্নপূরণ করছেন নিরক্ষর ভ্যানচালক জামাল

জাামাল গাজী হত দরিদ্র পরিবারে অভাবের ভিতর মানুষ হয়েছেন। শিক্ষার সুযোগ পাননি, তবে তার আগ্রহ ছিল। তাই যখন তার বিয়ে হয় ৯ম শ্রেনী ছাত্রী রোকেয়ার সাথে, তখন স্ত্রীকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।

 

পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামের ভ্যান চালক জামাল গাজী। তার স্বপ্ন স্ত্রী রোকেয়াকে নিয়ে শিক্ষা অর্জনের শেষ ভাগ পর্যন্ত যাবেন তিনি। স্ত্রী নিয়ে তিনি আকাশ ছুঁতে চান। তার পেশা ভ্যান চালানো, পয়সার অভাবে ভ্যানে সবার মটর থাকলেও জামাল গাজী পায়ে (প্যাডেল) ভ্যান চালান।

 

বুঝতে শিখে ভ্যান চালনা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারেন না জামাল। লেখা পড়া তিনি অন্যকে করতে দেখেছেন, কিন্তু নিজে করতে পারেননি। মনের ভিতর তার বাসনা ছিল একটি স্বপ্নের, তা হল ভালবাসার বধুকে নিয়ে।

 

জামাল গাজী পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়ানের নাাছিরপুর গ্রামের বিধবা রশিদার ছোট মেয়ে রোকেয়াকে ৯ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। জামাল তার শিক্ষা পড়া শুনার স্বপ্নের কথা রোকেয়াকে বলে।

 

রোকেয়াও সে হত দরিদ্র বিধবা মায়ের সন্তান সে তার স্বামীকে বলে আমাকে স্কুলে যেতে দাও তোমার স্বপ্ন আমি পূরণ করবো। সেখান থেকে ভ্যান ওয়ালা জামাল গাজীর সংসার সামলিয়ে রোকেয়া পড়াশুনা করতে শুরু করলো স্কুলে। এখন রোকেয়া বি,এ,পরীক্ষার্থী ও এক সন্তানের জননী।

 

করোনা কালীন পরীক্ষা বন্ধ তাই রোকেয়া এলাকার গরিব ঘরের শিশুদের নিয়ে জামাল গাজীর বাড়িতে সকাল বিকালের পাঠ শালা খুলে বসেছেন। এখানে ফ্রি শিক্ষা দান করা হয়। জামাল বলেন, আমার পিতা ঈমান আলী গাজী খুবই গরিব, ইচ্ছা থাকলেও স্কুলে যেতে পারেনি।

 

আমি যখন ভ্যানে করে শিক্ষার্থীদেকে স্কুল কলেজে নিয়ে যায় তখন আমার মনে হত আমি তো পারলাম না, আমার বিয়ে হলে তাকে পড়াশুনা করাবো। আমাার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, এখন রোকেয়ার একটা কাজ হলে আর ভ্যান চালাইতাম না, খুবই কষ্ট হয়।

 

এ বিষয় কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, অনেকে আমরা সিনেমা বা নাটকে দেখি স্বপ্ন জয়ের গল্প। বাস্তবে জামাল রোকেয়া দম্পতি আমাদের এলাকার দৃষ্টান্ত।

সংযুক্ত থাকুন