শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
Logo
নাভারন ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতির পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ উদ্ধার

নাভারন ক্লিনিকে সিজারের পর প্রসূতির পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ উদ্ধার

যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন বাজারে নাভারণ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপারের পর গৃহবধূ রুমা খাতুনের (৩৩) পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই প্রসূতি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

রুমা খাতুন ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামের আব্দুল ওহাবের স্ত্রী। রুমা খাতুন এ ঘটনার জন্য অস্ত্রোচারকারী চিকিৎসক ডা: মারুফকে দায়ী করছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, গত বুধবার দুপুরের দিকে রুমাকে নাভারণ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন ডা. মারুফ।

 

অস্ত্রোপচারের দুই দিন পর গত সকাল থেকে রোগীর পেটে ব্যথা শুরু হয়। দুপুরের পর থেকে ক্ষত স্থান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। রুমা খাতুন জানান, এক দিকে তার শরীরে রক্ত দেয়া হচ্ছিলো। অপরদিকে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছিলো। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। চিকিৎসকের এক সহকারী সিজারের স্থানের সেলাই কেটেছে বলে কোনো সমস্যা নেই। ক্ষত স্থানে টেপ মেরে দেয়া হয়।

 

কিন্তু পেটে ব্যথা ও রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রাতেই তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা তার পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ উদ্ধার করেন। রুমা খাতুন আরো জানান, চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন সুস্থ হতে সময় লাগবে। ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের কারণে এমনটা হয়েছে।

 

রুমার মা জানিয়েছেন, চিকিৎসক ডা: মারুফের ভুল অস্ত্রোচারের কারণে তার মেয়ের জীবন সংকটাপন্ন হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় একটু সমস্যা ছিলো।

 

প্রসূতির পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করার পর থেকে সুস্থ আছেন। নাভারন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ইমনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য না করে বলেন আমি একটা নাম্বার দিচ্ছি, আপনি তার সাথে কথা বলেন। এরপর ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে আর কথা বলেননি।

 

কারো নাম্বার ও দেননি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ডা. মারুফের সাথে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, অস্ত্রোপচারের পর পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ উদ্ধারের বিষয়টি সঠিক নয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির প্রচ- রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। ডায়াফার্মী সিøপের কারণে এমনটা হয়েছিলো।

 

যে কারণে ফের ওপেন করে দেখা হয়। পরে ড্রেসিংয়ের পর ভিতরে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ওপরে টেপ মেরে দেয়া হয়েছিলো। পরে রোগীর ভালোর জন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। অভিযোগ উঠেছে, ডা. মারুফের গাইনী বিভাগের ডিগ্রি নেই। তিনি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না।

 

বিগত দিনে ডা. মারুফ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে মেডিকেল অফিসার (এমও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ না হয়েও মারুফ শার্শা, বেনাপোল ও সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার করে থাকেন।

 

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, নাভারণ ক্লিনিকে রোগীর অস্ত্রোপচারের পর পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ উদ্ধারের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো। সিভিল সার্জন আরো জানান, ডা. মারুফের গাইনী চিকিৎসকের কোনো ডিগ্রি নেই। তবে তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করে বলে তথ্য আছে।

সংযুক্ত থাকুন