মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
নদীতে জোয়ার এলেই নোংরা পানিতে নিমজ্জিত হয় পাইকগাছা পৌরবাজার

নদীতে জোয়ার এলেই নোংরা পানিতে নিমজ্জিত হয় পাইকগাছা পৌরবাজার

মৃত প্রায় শিবসা নদী কোল ঘেঁষা খুলনার প্রথম শ্রেণীর পাইকগাছা পৌরসভা। নদীতে জোয়ার এলেই পৌরবাজার সহ অধিকাংশ এলাকা নোংরা পানিতে ভাসছে। আর এ অবস্থা বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে। এবারও প্রবল জোয়ারে তলিয়েছে পৌরবাজারে অনেকাংশ।

 

প্রতিবছর এভাবে জোয়ারে নোংরা পানিতে ভাসলেও নেই কারো মাথাব্যথা! এভাবে জোয়ারে সময় পানি উঠায় চরম বিপাকে বাজারের ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা সাধারন। প্রতিদিন দু'বার জোয়ারের পানিতে ভাসছে পৌরবাজার। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দোকানদার সহ ক্রেতা সাধারণ। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের মধ্যে দিয়ে পৌরসভার ড্রেন গিয়ে মিশেছে বাজার সংলগ্ন শিবসা নদীর সাথে। পৌরসভার নোংরা পানি যেয়ে শিবসা নদীতে পড়ে। আবার জোয়ারের সময় ওই ড্রেন দিয়ে পৌর অভ্যান্তরে প্রবেশ করছে। একদিকে ড্রেনের নোংরা আবর্জনা তার সাথে নদীর লোনা পানি মিশে বাজারের পরিবেশ দূর্ষিতের পাশাপাশি বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারন এ পানিতে নামার কারণে চুলকানি সহ বিভিন্ন চর্ম রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বাজারের স্বর্ণ পট্টি, কাঁচামাল হাটা, মুরগী বাজার, খুচরা মাছ বাজার, কাঁকড়া ডিপো মার্কেট, কামার পট্টি, মাংস বাজার, থানা প্রধান সড়ক, ইলেকট্রনিকস মেরামত পট্টি সহ বিভিন্ন এলাকা জোয়ারে সময় নোংরা পানিতে ভাসছে প্রতিদিন। পৌরসভার কোল ঘেঁষে প্রবাহিত শিবসা নদীটি পলি জমে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়েছে।

 

পানি নিষ্কাশনের কোনো উপায় নাই। সামান্য জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় পৌর সদর। আর ভাটায় নদীটি বিরানভূমিতে পরিণত হয়। নদীটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। এদিকে, নদীটি পলি জমে ভরাট হওয়ায় এক শ্রেণীর ভূমিদস্যুরা একেরপর এক নদীটি দখল করে নিচ্ছে। অপরদিকে, নদীটি খননপূর্বক বৃহত্তর জনগোষ্ঠির এই এলাকা রক্ষা করার জন্য আঞ্চলিক পানি কমিটিসহ বিভিন্ন সংস্থা মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে। খুলনা জেলার প্রথম পৌরসভা পাইকগাছা পৌরসভাটি শিবসা নদীর উপকূলে অবস্থিত। যার তিনদিকে রয়েছে শিবসা নদী আর একদিকে স্থলভাগ।

মাত্র কয়েক বছর পূর্বে নদী দিয়ে লঞ্চ, স্টীমারে করে দক্ষিণ এলাকার লোকজন খুলনা জেলা সদরে যাতায়াত করত। পাইকগাছা বাজারের পাশেই ছিল যাত্রী ছাউনী বিআইডব্লিউটিএ ঘাট। প্রতিদিন কয়েকটি লঞ্চ ভিড়ত ওই ঘাটে। লোকজন উঠা-নামা সহ ব্যবসায়িক মালপত্র উঠানামা করত। পৌরসভার তিন দিকে ছিল তিনটি খেয়াঘাট। হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হতো খেয়া নৌকায়। কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীটি পলি জমে একেবারেই ভরাট হতে চলেছে। বর্তমানে লঞ্চ, স্টীমার দুরের কথা নৌকা চলতে দূরহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে। নদীর তলদেশের তুলনায় পৌর সদর ও নদীর দক্ষিণ পাশের সোলাদানা ও লস্কর ইউনিয়নের স্থল ভূমি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ফলে পৌর সদর সহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নদীতে সামান্য জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হলে বাজার তলিয়ে যায়। আর বৃষ্টি হলে তো কথায় নেই। পৌর সদরসহ আশ-পাশের এলাকা অধিকাংশ সময় তলিয়ে থাকে। নদীতে পলি জমে দু’ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জন্মে বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে শিববাটী ব্রিজ হতে পৌর সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শিবসা নদী হাঁড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পলি জমে চরাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। নেই কোনো খেয়াঘাট, লোকজন হেটেই নদী পার হচ্ছে। এমনিভাবে চলতে থাকলে সল্প সময়য়ের মধ্যে পৌর সদরসহ আশপাশ এলাকা বছরের পর বছর তলিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির এই এলাকার নদীটি খনন করে পূর্বের ধারায় ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর এর মোবাইলে যোগাযোগ করে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

সংযুক্ত থাকুন