রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে বিয়ে অতঃপর ৫ বছর সংসার : স্ত্রীর গর্ভের তিনটি সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ

ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে বিয়ে অতঃপর ৫ বছর সংসার : স্ত্রীর গর্ভের তিনটি সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ

বাঘারপাড়ায় এক প্রতারকের নামে মামলা

নিজ ধর্ম পরিচয় গোপন করে বিয়ে, ৫ বছর সংসার, এরপর স্ত্রীর গর্ভের তিনটি সন্তান নষ্ট। এসব গুরুতর অভিযোগে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেননা অসহায় নাজনীন আক্তার প্রিয়া (২৩)। বরং উল্টো প্রতারক শিমুল বিশ্বাসের হুমকি-ধামকিতে সে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।


নাজনীন আক্তার প্রিয়া (২৩) সাতক্ষীরা জেলার মধ্যকাটিয়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর কন্যা। ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত প্রাণ আরএফএল কোম্পানীতে চাকরি করতেন যশোরের বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে শিমুল বিশ্বাস (৩২)। কোম্পানিটির সাতক্ষীরা জেলা জোনাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন শিমুল বিশ্বাস।


এসময় পেশাগত কাজের ফাঁকে তার পরিচয় হয় নাজনীন আক্তার প্রিয়ার সাথে। এসময় শিমুল নিজের ধর্মের পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক দাবি করে প্রিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর দহরম মহরম। বাড়িতে আসা যাওয়া। একপ্রকার সে প্রিয়াকে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারের কাছে প্রস্তাব দেন।


প্রিয়ার পরিবার ছেলের খোঁজখবর না নিয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকার করলে পরিবারের অজান্তে ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ নকল কাবিন নামায় স্বাক্ষর করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।


প্রিয়া জানান, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে কর্মস্থল পরিবর্তন করতে থাকেন প্রতারক শিমুল বিশ্বাস। এরপর আমাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় চাকরিকালীন সময়ে স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। এরই মাঝে তিন তিন বার গর্ভে সন্তান আসে আমার। কিন্তু প্রতারক শিমুল সন্তান প্রসবের আগেই নানা প্ররোচণায় ফেলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে নষ্ট করে দেয়।


সর্বশেষ ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলায় কর্মরত অবস্থায় আমাকে ফেলে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায় শিমুল। এরপর আমি ফিরে আসি সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে। শিমুলকে খুঁজতে থাকি। এরই মাঝে গত ২৬ জানুয়ারি সকালে জানতে পারি শিমুলের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়ার নলডাঙ্গা গ্রামে। ওইদিন সন্ধ্যায় নলডাঙ্গা গ্রামে শিমুলের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি সে মুসলিম নয়, হিন্দু।


আমার সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করে সে ৫ বছর সংসার করেছেন। তার বাড়িতে যাওয়ায় আমার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। মুহুর্তের মধ্যে গ্রাম না ছাড়লে খুন করারও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আমি নিরুপায় হয়ে ওই গ্রাম ছেড়ে বাঘারপাড়া থানায় এসে আশ্রয় নিই। পরদিন ২৭ জানুয়ারি বাঘারপাড়া থানায় শিমুল বিশ্বাসসহ তার পিতা ও মাতাকে আসামি করে বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করি। যার নং ১৪, তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ধারা ৪০৬/৪২০/৩২২/৪৯৭/৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০।


নাজনীন আক্তার প্রিয়া বলেন, আমার সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ধর্ম গোপন করে ৫ বছর সংসার করার ঘটনার পরও এলাকায় সে বহাল তবিয়তে আছে।


এলাকার লোকজন বলছে সে পাশের জেলা মাগুরা সদরের নতুন বাজার বেলতলা নামক স্থানে আরেকটি বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম পিংকী সরকার পিতা অনন্ত সরকার। বর্তমান ওই স্ত্রীকে নিয়ে সে সংসার করছে। এদিকে শিমুলের হয়ে নলডাঙ্গা গ্রামের সেলিম নামে এক ব্যক্তি প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে প্রিয়া সাংবাদিকদের জানান।


রোববার প্রেসক্লাব যশোরে এসে অভিযোগ করে বলেন, শিমুল বিশ্বাসের পেছনে ওই এলাকার অনেক প্রভাবশালী লোক রয়েছে। তারা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। বাঘারপাড়ায় গেলে আমাকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।


প্রতারণার শিকার প্রিয়া বলেন, যারা আমার জীবনকে এমনভাবে নষ্ট করেছে এর সুষ্টু বিচার চাই আমি। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে আমার ক্ষতি না করতে পারে তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


এ বিষয়ে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা বাঘারপাড়া থানার ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। মামলার প্রধান আসামী শিমুল বিশ্বাস পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বাকি আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।


থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দীন বলেন, মেয়েটি সাতক্ষীরা থেকে এসে আমাদের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর মামলাটি এজাহারভূক্ত করা হয়। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

সংযুক্ত থাকুন