রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩’শ কি.মি. নৌপথ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩’শ কি.মি. নৌপথ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ

প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুলনা বিভাগ জুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে : সমৃদ্ধ হবে মোংলা ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি নৌ-রুট ক্যাপিটাল ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩’শ কিলোমিটার নৌপথ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।


দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে ‘খুলনা’ পরিচিতি লাভ করায় মোংলা বন্দর ও ঘষিয়াখালী চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ অঞ্চলের নদীসমূহ পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য হয়ে পড়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 


সম্প্রতি খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিআইডব্লিউটিএ’র এক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে। সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীসমূহে বর্ষাকালে পর্যাপ্ত নাব্যতা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। উজানে অবস্থিত বেশিরভাগ নদীসমূহের সাথে গঙ্গা/পদ্মার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নদী সমূহের তলদেশ উঁচু হয়ে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 


এছাড়াও গড়াই নদীর মুখে পলি জমে পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় এ অঞ্চলে লবণাক্ততার মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। গত ৯ নভেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে খুলনা বিভাগের নদীসমূহের নাব্যতা বৃদ্ধি, ন্যূনতম জলাবদ্ধতা, জলাভূমি বাস্তু পুনরুদ্ধার, সেচ ও ল্যান্ডিং সুবিধাদি বৃদ্ধি করে নদী ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

 

বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ। স্বাগত জানান বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোঃ রকিবুল ইসলাম তালুকদার। এসময় বিভিন্ন নৌ-রুটের সাথে সংশ্লিষ্টরা বক্তৃতা করেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, খুলনা বিভাগের নদী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক আঙ্গিক বিবেচনায় রেখে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

 


এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্যগুলো হলো : নদীসমূহ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার ও নাব্যতা বৃদ্ধি; নৌপথের নিরাপদ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; পর্যটন, জলজ পরিবেশ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন; জলাবদ্ধতা দূরীকরণ; বর্তমানে উপস্থিত ঘাট বা ল্যান্ডিং স্টেশনের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ও নতুন ঘাট বা ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা।

 


পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি প্রাপ্তির পরই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। সমীক্ষার আওতাধীন নৌপথসমূহ হচ্ছে- রুট-১ আশাশুনি-এলারচর, রুট-২ বড়দিয়া-লোহাগড়া-কালাচানপুর, রুট-৩ চালনা-পাইকগাছা-আশাশুনি-প্রতাপনগর-নীলডুমুর, রুট-৪ (ক) চৌগাছা-ঝিকরগাছা-কালাওরা-তালা-পাইকগাছা, রুট-৪ (খ) বড়দাল হাট-কয়রা, রুট-৫ ঝিনাইদহ-মাগুরা-যশোর-নড়াইল-গাজীরহাট, রুট-৬ আলাইপুর-বাগেরহাট-ঘষিয়াখালী, রুট-৭ খুলনা-আলাইপুর-ছাগলাদাহ-গোপালগঞ্জ, রুট-৮ বটিয়াঘাটা-পাইকগাছা, রুট-৯ খুলনা-গাজীরহাট-বড়দিয়া-মানিকদাহ, রুট-১০ খুলনা-মোংলা-ঘষিয়াখালী-ঝালকাঠি, রুট-১১ (ক) মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-নীলমনিরগঞ্জ-বোয়ালিয়া হাট, ১১ (খ) বোয়ালিয়া হাট-আলমডাগা-জাউদিয়া হাট, ১১ (গ) কুষ্টিয়া-শৈলকুপা, ১১ (ঘ) সদরপুর হাট-শৈলকুপা-মাগুরা, রুট-১২ মথুরাপুর হাট, দৌলপতপুর, কুষ্টিয়া-নওদাপাড়া গোডাউন, মিরপুর কুষ্টিয়া, রুট-১৩ মোংলা-জয়মনিরহাট-সুপতি খাল-টাইগার পয়েন্ট, রুট-১৪ গড়াই মুখ-কুষ্টিয়া-বালিয়াকান্দি-কাশিয়ানী-বড়দিয়া, রুট ১৫ নওয়াপাড়া-চাপাতলা-যশোর, রুট-১৬ পাইকগাছা-বেনারপোতা, রুট-১৭ (ক) রায়মঙ্গল-চালনা, রুট-১৭ (খ) হাদ্দা ফরেস্ট অফিস-ঘুগড়াকাঠি, রুট-১৭ (গ) চৌদ্দরাশি ব্রিজের নিচের সংযোগ, রুট-১৭ (ঘ) বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিস-কাশিগাটা ফরেস্ট ক্যাম্প, রুট-১৮ মাদার গাং, রুট-১৯ বেলগাছি (পদ্মা নদী)-অর্পারা (মধুমতি নদী), রুট-২০ (ক) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ-মাগুরা ও রুট-২০ (খ) মাগুরা-কালাচাঁনপুর।

 


প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন হলে নৌপথ পুনরুদ্ধার; পরিবহন খরচ হ্রাস, স্থলপথে পরিবহন খরচ হ্রাস, স্থলপথে ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনা হ্রাস; বন্যার প্রকোপ ও জলাবদ্ধতা হ্রাস; পানির গুনগত মানোন্নয়ন; নদীর মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাসস্থানের উন্নয়ন; পলির পরিমান হ্রাস; সেচের পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, গৃহস্থলী কাজের জন্য পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি; ঘাট স্থাপনার জন্য যাত্রী ও মালামাল উঠানামায় সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি; স্থানীয় জনগণের কর্মস্থানের সুযোগ; সার্বিকভাবে এলাকার মানুষের মানোন্নয়নসহ সামগ্রিকভাবে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।

সংযুক্ত থাকুন