মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
চাবি না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ; মা, মেয়ে ও স্ত্রী আহত

চাবি না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা ; মা, মেয়ে ও স্ত্রী আহত

তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য

আলমারীর চাবি না দেয়ায় অভয়নগরে দেবাশীষ কুমার সরকার ওরফে সঞ্জয় (৪৫) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ডাকাত দল।

 

আহত করেছে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে এবং কুপিয়ে জখম করছ স্ত্রীকে। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নেমেছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কাউকে আটক করত পারেনি।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়া এলাকায় নিহতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দেবাশীষ কুমার সরকার চলিশিয়া গ্রামের মৃত গরচদ্র সরকারের একমাত্র ছেলে। আহতরা হলেন- নিহত দেবাশীষ কুমার সরকার ওরফে সঞ্জয়ের মা মিনতী সরকার (৬৫), স্ত্রী নিপা সরকার (৩১) ও একমাত্র মেয়ে দেবিকা সরকার (১৬)। 

নিহতের মা মিনতী সরকার জানান, সোমবার ভোররাতে মুখোশধারী ৭/৮ জন স্বশস্ত্র ডাকাত দল রানা ঘরের জানালার গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। তারা আমার ছেলের ঘরে গিয়ে আলমারীর চাবি দিতে বলে। না দিত চাইলে তারা আমার ছেলেকে মারপিট শুরু করে। এসময় ছেলের চিৎকারে আমি ওই ঘরে ছুটে আসি। এক পর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা আমার ছেলেকে লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। স্বামীকে বাঁচাতে ছেলের স্ত্রী নিপা এগিয়ে আসলে ডাকাতেরা ছোরা দিয়ে তার গলা ও পিঠে কুপিয়ে জখম করে। এ দৃশ্য দেখে আমি ও আমার নাতি দেবিকা চিৎকার করলে তারা আমাদের দুজনকে পিটিয়ে আহত কর। পরে ডাকাত দল আলমারী ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং আমার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা, গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, হাতের চুড়ি ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা আমাদেরকে উদ্ধার করে উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. চন্দন সরকার জানান, হাসপাতালে আসার পূর্বে দেবাশীষ কুমার সরকার ওরফ সঞ্জয় নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। আহত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত নিপা সরকারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়ছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন রয়েছে। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোর পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এস আই রেজোয়ান জানান, নিহতের ঘরে থাকা আলমারী ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া গেছে। রান্নাঘরের জানালার গ্রীল কাটা ছিল। ঘরের মধ্যে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কি পরিমান স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে গেছে তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়। হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডাকাতি না চুরি তা এখনো বলা সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধিদের কাউকে চিনে ফেলায় ব্যবসায়ী সঞ্জয়কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়ছে। তার পরিবারের সদস্যদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়ছে। মামলা এখনও হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদহ যশোর মর্গে পাঠানো হয়ছে। হত্যাকাণ্ডের সাথ জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। 

সংযুক্ত থাকুন