বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
খুলনা-সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছের ঘের

খুলনা-সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছের ঘের

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে হাজার হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে মাছচাষিদের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে এসব মাছের ঘের ভেসে যায়। খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ ও চালনা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ ও কালিগঞ্জ এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট উপকূলিয়া অঞ্চলে দেড় লক্ষাধিক মাছের ঘের রয়েছে। চলতি বছর এই ঘের থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে জোয়ারের পানিতে ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি-না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সৃষ্ট জোয়ারের ফলে বারেহাট জেলার রামপালে ৯১৭টি, মোংলায় ৬৮৫টি, মোরেলগঞ্জে ১২৫টি এবং শরণখোলা উপজেলায় ১৪৪টি এছাড়া খুলনার পাইকগাছা ও কয়রায় ৫ শতাধিক, দাকোপ ও চালনায় ২ শতাধিক এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরেই ৫ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদরের ভৈরব নদী সংলগ্ন মাঝিডাঙ্গা এলাকায় অনেক মাছ শিকারিকে ছোট ছোট খালের মোহনায় জাল দিয়ে ঘের থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। ওই এলাকার মৎস্যচাষি রেজাউল ইসলাম জানান, গত বুধবার রাতে জোয়ারে তার ঘেরের বেশ কিছু মাছ ভেসে গেছে। জোয়ারের পানি বাড়লে নতুন করে আবারও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এই মৎস্যচাষি। বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) এ এস এম রাসেল জানান, বাগেরহাটের রামপাল, মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা এই চারটি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দুই হাজার ৯১টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে চাষিদের এক কোটি ৫৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ণিমা তিথি ও ভরাকাটালের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে যে জোয়ারটি আসবে সেই জোয়ারের পানির চাপও অনেক বেশি হতে পারে বলে তিনি চাষিদের সর্তক করেছেন। সব মিলিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য ঘের ভেসে মৎস্য খাতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

সংযুক্ত থাকুন