শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১
Logo
খুলনায় বেড়েছে হেলমেট পরা ‘উড়ন্ত’ ছিনতাইকারী

খুলনায় বেড়েছে হেলমেট পরা ‘উড়ন্ত’ ছিনতাইকারী

আতঙ্কে নগরবাসী

খুলনা মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে উড়ন্ত ছিনতাইকারী তৎপরতা।

 

প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেলে চড়ে নগরবাসীর কাছ থেকে মুহুর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নেয় নগদ টাকা, গহনা, মোবাইল সেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ও দামী জিনিসপত্র। এতে করে নগরবাসীর মনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, বেড়েছে আতঙ্কও। এসব ছিনতাইকারীর বেশিরভাগই উঠতি বয়সী।

 

যাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এলাকাভিত্তিক একাধিক ব্যক্তি। তবে অভিযোগের পর অভিযোগ দিলেও এসব ছিনতাইকারীর অধিকাংশই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। একাধিক সূত্র জানায়, মহানগরীর পিটিআই মোড়, সদর থানা সংলগ্ন রোড, শিববাড়ি মোড়, জোড়াগেট মোড়, নূরনগর মোড়, কেডিএ এভিনিউ, কেডিএ এ্যাপ্রোচ রোড, যশোর রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এসব ছিনতাইকারীর আনাগোনা।

 

মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে দুইজন আরোহী নিয়ে এরা টার্গেট শনাক্ত করে। এসময় মোবাইলে কথা বলতে দেখলে, ভ্যানিটি ব্যাগ-মানি বাগ বের করতে দেখলে কিংবা নগদ টাকা বের করতে দেখলে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেলে এসে এসব অপরাধীরা ছিনিয়ে নিয়ে মুহুর্তের মধ্যে পালিয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় থানা কিংবা প্রশাসনকে জানানো হলে সাধারণ ডায়েরি’র উপরই ভরসা রাখতে হয় জনগণকে। ছিনতাইকারীদের চিনতে না পারার কারণে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে নগরীর পিটিআই মোড় থেকে টুটপাড়ার বাসিন্দা সুমন সাহা নামের এক ব্যক্তির স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নং ১৪১১, তারিখ: ২৫/১২/২০২০ইং।

 

এ বিষয়ে সুমন সাহা জানান, ‘শুক্রবার অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে পিটিআই মোড়ে আমার মোবাইল ফোনটি এক মোটরসাইকেল চালক থাবা মেরে নিয়ে যায়। আমি ইজিবাইকের পিছনের সিটে বসা ছিলাম, ফোন হাতে থাকায় মুহুর্তের মধ্যে সে সেটি ছিনিয়ে নেয়।’

 

এ বিষয়টি ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘আমাদের খুলনা’ তে জিডি’র কপিসহ পোস্ট করা হলে নগরীতে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তিও জানান তাদের অভিজ্ঞতার কথা। বিষয়গুলো নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ কিংবা জিডি করা হলেও সহসা সে সব সেট উদ্ধার করা সম্ভব হয় না বলে জানান তারা। এছাড়া বেশ কয়েকদিন আগে রিক্সা কিংবা ইজিবাইকে করে নারীরা চলাচল করতে অস্বস্তির কথা প্রকাশ করেন।

 

বিশেষ করে হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ কিংবা মোবাইল ফোন থাকলে উড়ন্ত ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয় হরহামেশা। যার কারণে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও মিডিয়া) কানাই লাল সরকার বলেন, ‘নগরীতে সার্বক্ষণিকই কেএমপি’র টহল অব্যাহত থাকে। যেসব ঘটনায় মামলায় দায়ের হয়েছে সেগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

 

এসব ঘটনায় আসামিও গ্রেফতার হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি ঘটনা ছাড়া খুলনার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো।’ উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট খুলনা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে যাওয়ার পথে এক হিমায়িত মৎস্য ব্যবসায়ীর ১৩ লাখ টাকা ছিনতাই হয়।

 

২০ সেপ্টেম্বর নগরীর তেতুলতলা মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্য দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ছিনতাইকারী চক্র। ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নগরীর স্যার ইকবাল রোডের অগ্রণী ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে রিকশাযোগে ফিরছিলেন ঠিকাদার মো. তারিকুল আলম।

 

খুলনা সার্কিট হাউজ মোড়ে তিনটি মোটরসাইকেলে আট দুর্বৃত্ত তার রিকশাকে ঘিরে ধরে। এরপর তারিকুলকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে হাজী মহসিন রোড দিকে চলে যায় হেলমেট পরিহিতরা। এসব ঘটনায় আসামি গ্রেফতার হলেও ছিনতাই হওয়া অর্থ আজও উদ্ধার করা হয়নি।

সংযুক্ত থাকুন