শনিবার, ০৮ মে ২০২১
Logo
খুলনার শিল্পাঞ্চলেও লেগেছে কুমড়া বড়ি তৈরীর ধুম : ব্যস্ত গৃহবধুরা

খুলনার শিল্পাঞ্চলেও লেগেছে কুমড়া বড়ি তৈরীর ধুম : ব্যস্ত গৃহবধুরা

বাঙ্গালীর দেশীয় খাদ্য তালিকায় কুড়ার বড়ি দির্ঘ দিনের ঐতিহ্য। সে কারনে শীতের সময় এই কুমড়ার বড়ি তৈরীর ধুম পড়ে যায়।

 

মাছের পরিবর্তে আলু, ফুলকপি, টমেটো সহ অন্যান্য সবজির সাথে এই কুমড়ার বড়ি সকলের প্রিয়। নিরামিষ ভোজীদের জন্য এটা প্রিয় খাবার হিসাবে পরিচিত।

 

কুমড়ার বড়ি দেশের সকল গ্রামে কমবেশি তৈরী হলেও কোন কোন এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে ও তৈরী করা হচ্ছে এই কুমড়ার বড়ি।

 

আর একারনে প্রায় সারা বছরই বাজারের তরকারির দোকান বা মুদি দোকান গুলোতে কুমড়ার বড়ি কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিকেজি কুমড়ার বড়ি বাজারে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাক পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। মুলত শীত মৌসুমে ই কুমড়ার বড়ি তৈরী করা হয়।

 

কুমড়ার বড়ি তৈরীর মূল উপাদান মাশকলাই ও চাল কুমড়া তবে কেউ কেউ চাল কুমড়ার পাশা পাশি পেপে ও মানকচু ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া কেউ কেউ সাদ ও গন্ধে বাড়াতে জিরা কালো জিরা, মউরি বা মসলা দিয়ে থাকে। খুলন ফুলতলা এলাকায় গ্রামের তেমনি শীত কালে কুমড়ার বড়ি বানানোর জন্য কয়েজন কারিগর কয়েছে যারা নিজেদের খাবারের জন্য ও বাজারে বিক্রির জন্য কুমড়ার বড়ি তৈরী করে থাকে।

 

এ বিষয়ে তেমনি একজন গিলাতলার সাকিলা বেগম বলেন, কুমড়ার বড়ি তৈরীর মূল উপাদান মাশকলারই ডাল ও পাকা চাল কুমড়া এর সাথে সাদ ও গন্ধের জন্য জিরা কালো জিরা, মউরি বা মসলা দিয়ে থাকে। পরিস্কার মাস কলাইয়ের ডাল ৬ থেকে ৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে যখন ডাউল ফুলে উঠবে তখন তা শিল পাটায় মিহি করে বেটে রেখে দিতে হবে। এর পর পাকা চাল কুমড়া খোসা ছিলে ও বিচি বের করে প্রথমে ফালি ফালি করে কেটে নিয়ে তা কেরানি দিয়ে কোরাতে হবে।

 

কোরনো চাল কুমড়া পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে ছাকনি দিয়ে ছেকে নিয়ে পানিটা ফেলে দিতে হবে। পানি ফেলে না দিলে বড়ির স্বাদ টক কট হতে পারে। এর পর পরিমান মতোন জিরা, কালোজিরা, মশলার গুড়া ডাউল ও চালকুমড়ার সাথে সামান্য পানি দিয়ে ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে যেনো মিকচার টা আঠালো হয়।

 

এরপর দিনের শুরুতে সূর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে পরিষ্কার কাপড়ে, চালনে, কুমড়ার মিক্চার হাতের মুঠার মধ্যে নিয়ে বড়ি কেটে সাজিয়ে দিতে হবে। যা ৩ খেকে ৪ দিনের মধ্যে পূর্ন রোদে শুকিয়ে যাবে তবে রোদ ভালো নাহলে বড়ির রং খাারপ হতে পারে।

 

এভাবে ভালো করে সুকিয়ে সারা বছরের জন্যে ডালের বড়ি সংরক্ষন করা য়ায়। এবিষয়ে সাকিলা বেগম আরও বলেন, ডাউলে বড়ি বানতে প্রায় রাত ভর আমি ও আমার দুই মেয়ে কাজ করি এবং ভোর বেলায় বড়ি কেটে তা রোদে শুকানোর ব্যবস্থা করি।

 

আমরা শুধু নিজেদের জন্যই নয় অন্যদের কেও কুমড়ার বড়ি তৈরী করে দেই আর এতে মালামাল বাদে শুধু মজুরী বাবদ প্রতি কেজি ডাউলের জন্য এক শত টাকা হারে নিয়ে থাকি।

সংযুক্ত থাকুন