বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
খুলনার করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি স্থগিত!

খুলনার করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি স্থগিত!

১শ’ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ১শ’৩০ জন

খুলনা বিভাগে হু হু করে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় চাপ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোগীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় নতুন বেড খালি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত: রোগী ভর্তি স্থগিত করেছে খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যা অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এদিকে খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালসহ বিভাগের জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে করোনা রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালেই সিট সংকুলান হচ্ছে না। ইতিমধ্যে খুলনার ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছে ১শ’৩০ জন। ফলে বেডের সংকালন না হলে আপাতত রোগী ভর্তি স্থগিত ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, বেড খালি হলে রোগী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার। ১০০ শয্যার এ করোনা হাসপাতালে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩০জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, হাসপাতালে আরও ১শ’ শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি প্রস্তুত হলে আরও রোগী ভর্তি করা হবে। তবে, কত দিনের মধ্যে ১শ’ বেড প্রস্তুত হবে-তার সঠিত তথ্য বলতে পারেননি তিনি। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে আরও দুই হাজার ৫৭৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ১৯ হাজার ৪৪৭টি নমুনা পরীক্ষায় এ পরিমাণ রোগী শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার হিসেবে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার খুলনায় ৩৯ শতাংশ এবং রংপুরে ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ছয় শতাংশেরও কম। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৮ শতাংশ, সিলেটে ১৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বৃহ¯ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। খুলনা বিভাগের বাগেরহাটে ৬৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ জন, যশোরে ২০০ জন, ঝিনাহদহে ২১ জন, খুলনায় ১২২ জন, কুষ্টিয়ায় ৭৩ জন, মেহেরপুরে ৯ জন, নড়াইলে ৫ জন এবং সাতক্ষীরায় ৪৮ জন শনাক্ত হয়। খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৮ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে ৬৯৬ জনের মৃত্যু হলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশে¬ষণে দেখা যায়, বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। এ পর্যন্ত খুলনায় শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১০১ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৯২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৫৩৬ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৬২ জন। সাতক্ষীরায় শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৫৭ জন এবং মারা গেছেন ৪৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫২৫ জন। যশোরে শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৯৯ জন, মারা গেছেন ৮৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৬৬০ জন। নড়াইলে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৬১ জন, মারা গেছেন ২৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন। মাগুরায় শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯২ জন, মারা গেছেন ২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন। ঝিনাইদহে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩১ জন, মারা গেছেন ৫৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৯০ জন। কুষ্টিয়ায় শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯৪ জন, মারা গেছেন ১২৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৭৬৬ জন। চুয়াডাঙ্গায় শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৫৪ জন, মারা গেছেন ৬৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৩ জন। শনাক্তের দিক দিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে মেহেরপুর। এখানে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১১০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৮০ জন।

সংযুক্ত থাকুন