বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
উপকূলজুড়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা

উপকূলজুড়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা

অতি প্রবল রূপে ইয়াস : ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

 

 


অবশেষে সব পূর্বাভাস সত্যি করে দিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ইয়াস। আবহাওয়াবিদরা ক’দিন ধরেই বলে আসছিলেন, মঙ্গলবার রাতে ভয়ঙ্ককর রূপ ধারণ করবে সামুদ্রিক এ ঝড়টি। ইয়াসের এই রূপে সাগর খুব বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে।

 


ফলে উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলোতে তোলা হয়েছে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকালের দিকে এটি উড়িশার ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানবে। সে সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ হবে ১৮৫ কিলোমিটান পর্যন্ত।

 


এদিন দুপুরের দিকে উড়িশার প্যারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি বালাসোরের কোনো এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে উঠে আসবে। ভারতের ঝড়টি সরাসরি আঘাত করলেও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে থাকবে প্রভাব। এতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে।

 


আর এ খবরে রীতিমত চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় রয়েছে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসীন্দারা। ইতিমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঝড় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এসব এলাকায়। জোয়ারের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং দিনভর গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে ভাঙ্গতে শুরু করেছে উপকূলিয় অঞ্চলের দূর্বল বাঁধ সমূহ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গতকাল রাত সাড়ে এগারটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ভোলা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ উপকূলবর্তী অসংখ্য নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাতের ঘুম হারাম হয়েছে উপকূলবাসীর। না জানি সকালে কতটা ভয়ংকর তান্ডব দেখতে হবে ঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের এমনই দুঃশ্চিন্তা বাসা বেঁধে আছে এ অঞ্চলের মানুষের মনে। খুলনা থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী ৯নং ওয়ার্ডের ফকিরের কোনা এলাকায় শিবসা নদীর জোয়ারে প্রায় ৪০০ কাঁচাঘর বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

 

নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ৩ ফুট। স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য কোস্টগার্ড মাইকিং করছে। উপজেলার বেড়িবাঁধের ৮টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সেখানে বালু ও জিও ব্যাগ ফেলানোর উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকালে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস জানান, উপজেলার ১২৩টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য শুকনা খাবার হিসেবে ৫০০ কেজি চিড়া, ৫০০ কেজি মুড়ি ও ১০০ কেজি গুড় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিশুদের পৃথক খাদ্য মজুদ রাখা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যদের নেতৃত্বে মাইকিং হচ্ছে। কয়রা উপজেলার স্থানীয়রা জানান, কয়রা উপজেলার দশহালিয়া, মদিনাবাদ, দুই নম্বর কয়রা, গোবরা, রত্নাগিরি এলাকাসহ ২৬ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

পাইকগাছা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে পাইকগাছার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও হতে দেখা গেছে। দুপুরের জোয়ারের পানির প্রবল ¯্রােতে দেলুটির চকরি-বকরি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে এবং রাড়–লীর মালোপাড়ার বাঁধ উপচে এ দুই ইউনিয়নের অংশ বিশেষ তলিয়ে গিয়ে মৎস্য ও কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামত করার চেষ্টা করছে।

 

এদিকে উপজেলার নদীবেষ্টিত ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। রাতের জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলে কিংবা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের জোয়ারের প্রবল স্রোত ইউনিয়নের ২০নং পোল্ডারের চকরি-বকরি প্রতিরক্ষা বাঁধের পূর্বের স্থান থেকে পুনরায় ভেঙ্গে যায়। এতে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাটার সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামত করে। এই এলাকার ৫ কিলোমিটার সহ ইউনিয়নের ১৩ কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

 

লতা ইউপি চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মন্ডল জানান, অত্র ইউনিয়নে প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী জানান, সোলাদানা ইউনিয়নের ২৩নং পোল্ডারের পাটকেল পোতা, আমুড়কাটা স্লুইচ গেট, নুনিয়াপাড়া, বাসাখালী ও পতন, বেতবুনিয়া ও সোলাদানার আবাসন এলাকার আঁধা কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, লস্কর ইউনিয়নের ১০/১২নং পোল্ডারের ভরেঙ্গা স্লুইচ গেট, বাইনতলা গেট, আলমতলা গেট, আলমতলা দক্ষিণ বিলের গেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের ঘের সংলগ্ন এলাকার বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে কড়–লিয়া সানা বাড়ী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, গড়ইখালী ইউনিয়নের ১০/১২নং পোল্ডারের কুমখালীর ফকিরবাড়ী সংলগ্ন, গাংরখী ও শান্তা স্লুইচ গেট এলাকার ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান জানান, গদাইপুর ইউনিয়নের বয়রা, বাইসারাবাদ, হিতামপুর ও পুরাইকাটী এলাকার আঁধা কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, রাড়–লী ইউনিয়নের ৯নং পোল্ডারের মালোপাড়া ও ভড়ভুড়িয়ার গেট এলাকার ১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দুপুরের কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানি উপচে মালোপাড়া তলিয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও মেরামত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সাথে কথা বলা সম্ভব নয় বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। থানার ওসি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে তাদেরকে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বেই আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ইতোমধ্যে প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে জরুরী মেরামত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে এবং বেড়িবাঁধ টেকসই করার জন্য জাইকা সহ অনেক উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা জানান। বাগেরহাট থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাসহ জেলার সকল উপজেলায় থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। জেলা প্রশাসন থেকে ঝুকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নত করা জেলার মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা ও রামপাল উপজেলার বাসিন্দারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার কোন আগ্রহ দেখা না গেলেও জোয়ারের পানিতে নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ৪টি উপজেলার নি¤œঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শরণখোলার বলেশ্বর, মোরেলগঞ্জের পানগুছি, মোংলার পশুর, বাগেরহাটের ভৈরব, দড়াটানাসহ সকল নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে এক দেড়-ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন সময় গড়ানোর সাথে সাথে এই পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। এ মধ্যে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। তবে এ উপজেলার পানগুছি নদীর তীরে থাকা শানকিভাঙ্গা ও বদনী ভাঙ্গা গ্রামের বেড়িবাঁধ না থাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে। যে কারনে ঝড়ের প্রভাব শুরুর আগে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা। মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামের সালেহা বেগম বলেন, “সকাল থাইক্কা, গাঙ্গের পানি বাড়তেছে। সহাল ১০টার দিকে, পানিতে মোগো বাড়ী-ঘর তলাই গেছে”। একই গ্রামের জামাল ফজলু হাওলাদার বলেন, “জোয়ারে, গাঙ্গের পানি যে ভাবে বারতিছে তাতে ঘড়ের আগেই ভাইসা যামু। শরন খোলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, “মোগো তো আর ঝড়ের প্রয়োজন হয় না। আমাবশ্য ও পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে মোরা ডুইব্বা যাই। মোগো বাজারও তলাই যায়। তয় এবার পানির তোর একটু বেশি। সকাল থাইক্কা পানি উঠতে শুরু করছে”। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ^জিৎ বৌদ্ধ বলেন, পূর্ণিমার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নদী-খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাটিতে এ পানি আবার নেমে যাবে। মোরেলগঞ্জের কিছু গ্রামে রয়েছে যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন ভেড়িবাঁধ নেই। সে সব গ্রামের বাসিন্দারা ঝুকির মধ্যে রয়েছে। তাদেরকে নিরাপদে সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার জন্য বলেন এ কর্মকর্তা। শ্যামনগর থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, শ্যামনগরের উপকুল জুড়ে সুপার সাইক্লোন ইয়াস আগামনী বার্তায় আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়েছে উপকূলীয় মানুষ। শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সুন্দরবন উপকুলীয় এলাকার নদীর পানি ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর ও কৈখালী ইউনিয়নে ১২/১৪ স্থানে বেড়ি বাধ ছাপিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে এবং মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী ২ টি স্থানে বেড়ি বাধ ভেঙ্গে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। অপরদিকে কোস্ট গার্ডের কৈখালী ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ আতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম দুর্যোগ কবলিত মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১০ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার এলাকায় টহল অব্যহত রেখেছে। লেঃ কমান্ডার আতাহার হোসেন বলেন, ইয়াস পরবর্তী সময়ে মানুষকে সু-চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম কাজ করবে এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এছাড়া দুর্গত এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে সতর্ক বার্তা প্রদান করছে। মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আবুল কাশেম মোড়ল জানান, তার ইউনিয়নে ৫/৬ স্থানে বেড়ি বাধ ছাপিয়ে নদীর পানি ভিতরে প্রবেশ করেছে এবং সিংহড় তলি ভোলার বাড়ির সামনে ৫/৬ হাত বেড়ি বাধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এসময় নদীতে ভাটা প্রবাহিত হওয়ায় এলাকায় তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই। সাথে সাথে স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে বাধে মাটি দেওয়া হয়েছে। রাত্রে ও সেখানে লাইট জ¦ালিয়ে কাজ করা হবে। গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মাছুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়টি একটি দ্বিপ অঞ্চল। ইউনিয়নের ৫/৬ জায়গায় বেড়ি বাধ ছাপিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। বর্তমানে স্বোচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সেখানে বাধে মাটি দিয়ে উঁচু করা হচ্ছে। রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানান, তার ইউনিয়নে জ্জ স্থানে বেড়ি বাধ ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। সেসকল স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটি দিয়ে উচু করা হচ্ছে। কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, তার ইউনিয়নে বেড়ি বাধ অনেক স্থানই ঝুকিপূর্ন। ৩ টি স্থানে নদীর পানি বেড়ি বাধ ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। বাধ সংলগ্ন বসতিরা আতঙ্কে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আইলা, সিডর, বুলবুল, আম্ফান ঘূর্নিঝড় প্রবাহিত হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় টেকসই বেড়ি বাধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যবধি তা করা হয়নি। আমার ইউনিয়নে পানখালি চুনা নামক স্থানে নদীর পানি বেড়ি বাধ ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটি ফেলা হচ্ছে। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার মাসুদ রানা জানান, উপজেলার সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার ঝুকিপূর্ন বেড়ি বাধ গুলো স্থানীয় সহযোগিতায় মেরামতের কাজ অব্যহত আছে। শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনম আবুজর গিফারী বলেন, বিভিন্ন ঝুকিপূর্ন স্থান পরিদর্শন করে আতঙ্কগ্রস্থ সকল মানুষকে সব রকমের সহযোগিতার আশ^াস দিয়েছেন। বর্তমানে উপকূলীয় মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। গাবুরা এলাকার আলহাজ¦ মুনসুর মালী জানান, দিনের জোয়ারের চেয়ে রাতের জোয়ার আরও বৃদ্ধি পাবে। রাতের জোয়ারে এবং ২৬ মে বুধবার জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবন উপকূলীয় সব কয়টি ইউনিয়নের মানুষ নদীর পানিতে হাবুডুবু খাবে এবং জান মালের ব্যাপিক ক্ষতি হবে। এদিকে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ০৬ টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সংযুক্ত থাকুন