বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
আশাশুনিতে অবৈধভাবে চলছে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন

আশাশুনিতে অবৈধভাবে চলছে ভূগর্ভের বালু উত্তোলন

আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবৈধ ভাবে ভূ-গর্ভস্থ বালি অবৈধ ভাবে উত্তোলন থামছে না। সরকারি নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে প্রকাশ্যে বালি উত্তোলনের ঘটনায় এলাকার মানুষের চক্ষু ছানাবড়া হতে বসেছে।

 

জমি ওয়ালাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন ড্রেজার মেশিনের সাহার্যে গ্রামের মধ্যে, লোকালয়ে ও পুকুর খানা-খন্দক থেকে লক্ষ লক্ষ ফুট বালু উত্তোলন করে বাড়ি ভলাট, পুকুর ভরাট, দোকান ভরাট, রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করে থাকে।

 

কাজকে সহজ করতে একটি পক্ষকে মাসোহারা দিয়ে কাজকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ ভাবে পূর্বানুমতি নিয়ে সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করা হলেও সম্প্রতি নাছিমাদ গ্রামের মৃত ছমেদ আলি ফকিরের পুত্র প্রতিবন্ধী শাহাজাহান ও মাওলানা শামছুর রহমানের পুত্র প্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমান ইটের ভাটার কাজে বাইরে থাকার সুযোগে তাদের জমি থেকে জোর পূর্বক বালি উত্তোলন করে বিক্রয় করে দিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসার সাথে জড়িত হিজলিয়া গ্রামের আঃ হামিদ সানার পুত্র ওমর ফারুক, নাছিমাবাদ গ্রামের আরশাদ গাজীর পুত্র আঃ রাজ্জাক ও মৃত ধুনাই গাজীর পুত্র আঃ গফফার।

 

তারা তাদের নাছিমাবাদ মৌজায় ১৬৫নং খতিযানে ৩১৪, ৩১৫ ও ৩১৬ দাগে ১.০০ একর জমির সমতল ভূমির বালি ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। এব্যাপারে প্রতিবন্ধীরা জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

শ্রীউলা ইউনিয়নে দীর্ঘ ৬ মাস যাবত উপরোক্ত ৩ জনসহ হিজলীয়া গ্রামের আনার ঢালীর ছেলে ফজলে হক, কলিমাখালী গ্রামের মৃত নুর আলীর মোড়লের ছেলে শাহাজান, গফ্ফার গাজীর ছেলে সালাউদ্দীন বাবলু, শহিদ মোড়লের ছেলে ফারুক হোসেন, মাহমুদ মিস্ত্রির ছেলে মনিরুল, নূর আলির ছেলে হোসেন, হিজলিয়া গ্রামের সবুর, রাজ্জাক, কওছার মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীরসহ আরো অনেকে লোভ বা লাভের বর্ষবত্তী হয়ে এলাকার বালু উত্তোলনের উৎসব সৃষ্টি করেছেন।

 

দীর্ঘ ৬ মাস শ্রীউলা ইউনিয়নের তারা গ্রামের লোকালয়, বাড়ি ঘরের পাশে, রাস্তার পাশ হতে বালি উত্তোলন করায় এলাকা মহল্লাবাসী মহা ঝুঁকিতে রয়েছেন। দিনের পর দিন ১১/১২ জন অপরাধী কিভাবে প্রকাশ্যে ভূ-গর্ভের বালি উত্তোলন করে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে, তা সচেতন মহল ভেবে পাচ্ছেনা।

 

এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কার অনুমতিতে বালু উত্তোলন করছে আমার জানা নাই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে অব্যশই তাদেরকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

শ্রীউলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলন করছে আমার জানা নাই। এলাকাবাসী প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ন্যাক্কার জনক ঘটনা দ্রুততার সাথে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংযুক্ত থাকুন