মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
আর ভ্যান চালাবে না শিশু শম্পা : দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আর ভ্যান চালাবে না শিশু শম্পা : দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরের শিশু শিক্ষার্থী ভ্যানচালক শম্পাদের পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলার ডিসি শম্পাদের বাড়ি গিয়ে বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান।

 

এছাড়া এ দিনই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ পরিবারের পাকা ঘর তৈরির কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জামালপুর জেলার ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাবার চিকিৎসার জন্য শিশু শম্পার ভ্যান চালানোর সংবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

 

১০ বছর বয়সের শম্পা খাতুন জামালপুর সদর উপজেলার নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাকাটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভাসানীর দুই মেয়ের মধ্যে ছোট সে। কয়েক বছর আগে শফিকুলের বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। শফিকুল আগে ভ্যান চালাতেন। পাঁচ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তার এক পা ভেঙে যায়।

 

পরিবারের প্রায় সবকিছু বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও তার পা ভালো হয়নি। ফলে ঘরে পড়ে আছেন শফিকুল। তাই বাবার ওষুধের টাকাসহ অভাবের সংসারের হাল ধরতে দেড় বছর আগে ভ্যান চালানো শুরু করে ছোট্ট শিশু শম্পা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। সেই খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত সোমবার সকালে জামালপুর জেলার ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক শম্পাদের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান।

 

ওইদিনই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শম্পাদের পরিস্থিতি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠান। এরপর বুধবার সকালে প্রধামন্ত্রীর নির্দেশে ডিসি ফের শম্পাদের বাড়িতে গিয়ে শফিকুলকে ঢাকায় পাঠানোর সময় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে শফিকুলের চিকিৎসা হবে। শম্পাদের জন্য একটি পাকা ঘর তৈরি করে দিতে নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন ডিসি।

 

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শিশু শম্পার লেখাপড়াসহ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে যা যা প্রয়োজন তাই করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ সময় জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন তার সাথে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে শিশু শম্পা বলে, আমি আর ভ্যান চালাব না।

 

এখন আমি লেখাপড়া করব। এখন আর আমার চিন্তা নাই। চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে শম্পার মা নেবুজা বেগম বিগত দিনের কষ্টের কথা মনে পড়ে যায়। গত ৬ বছরে কোনো ঈদে শম্পার মুখে সেমাই তুলে দিতে পারি নাই। ঠিকমত খাবারও দিতে পারি নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি এতই আনন্দিত হয়েছি যে এখন কথা বলতে পারছি না।

 

কীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তাদের বাড়ি নির্মাণ কাজ ডিসির উদ্বোধনের পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীও সেখানে পৌঁছে গেছে। সে সব দেখিয়ে নেবুজা বেগম বলেন, বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট আসছে।

 


বাড়ি তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। যা আমি জীবনে কল্পনাও করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের অসহায় পরিবারগুলো ভাল আছে।

সংযুক্ত থাকুন