বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
অভয়নগরে নিজের মেয়েকে চাকুরি দিতে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

অভয়নগরে নিজের মেয়েকে চাকুরি দিতে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

অভয়নগরের মহাকাল বিসিসি মোজাদ্দেদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় মেয়ের চাকুরি দিতে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল হক এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

জানা গেছে, মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করাতে কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেনসহ কমিটির অন্যান্য সকল সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেন। বিষয়টি আকরাম হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৫ সালে। 

 

বর্তমান কমিটির সভাপতি আলী হোসেন জানান, বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে ইতোপূর্বে ছাড় পেলেও ঘুষ খেয়ে আমি এ অন্যায় জালিয়াতি মেনে নিতে রাজি নই। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এক সম্ভান্ত্র ব্যক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫ লাখ টাকার ঘুষ প্রস্তাব এসেছে।

 

ঘটনার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৫/৩/১৫ তারিখে ২/১৫নং সভায় এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেপারে দেয়া ও বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

জনৈক শিক্ষক জানান, পদ শুন্য হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পরে আবেদনপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, বিধি বিধান তোয়াক্কা না করে ওই একই মিটিংএ ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ড চুড়ান্ত করা হয়েছে।

 

২০/৫/১৫ তারিখে ৩/১৫ নং সভায় আলোচ্য বিষয় ছিল বিগত ১২/৪/১৫তারিখের এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষ নিয়োগ সাক্ষাৎকার বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদন ও নির্বাচিত শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান প্রসঙ্গে।

 

২/১৫ এর পরে ৩/১৫ নং সভার মাঝে আর কোন মিটিং হয়নি এবং ১২/৪/১৫ তারিখের কোন রেজুলেশন নেই। আবার ৩/১৫ নং সভা শেষ না করেই ৩০/৫/১৫ তারিখে ডাকা ৪/১৫নং সভায় সভাপতি আকরাম হোসেনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ২নং আলোচ্য বিষয় ছিল এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক এস এম সায়মা সুলতানার যোগদান অনুমোদন। এখানে তারিখটি ছিল কাটাকাটি ঘষামাজা এবং সভাপতির নামের সিল ব্যবহার না করে অন্য একটি সিল ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়টি আকরাম হোসেনসহ অন্যান্যরা নিশ্চিত করেছেন।

 

আকরাম হোসেন এর পরবর্তী সভাপতি আসাদুজ্জামান ও শিক্ষক প্রতিনিধি বলেন, সভাপতি আকরাম হোসেন আমাকে বলেছিলেন, নিয়োগ বোর্ডে আমি আর সুপার ছাড়া আর কেউ উপস্থিত হয়নি। পরে বাড়ী বাড়ী যেয়ে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।

 

শিক্ষানুরাগী সদস্য ১নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল গফফার বিশ্বাস তার নিজের স্বাক্ষর জালের বিষয়টির সংগে একমত পোষন করেছেন।

 

তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা আলতাফ হোসেন জানান, নিয়োগ বোর্ড কাউকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার পর মূল কমিটি তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা কিন্তু এক্ষেত্রে মূল কমিটি নিয়োগ না দেয়ায় সভাপতি সহ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর ও সভাপতির সিল জালিয়াতি করে নিজ প্রতিষ্ঠানে এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক পদে নিজের মেয়ে এস এম সায়মা সুলতানাকে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

 

বর্তমান সভাপতি আলী হেসেন জানান, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল হকের নিকট সকল কাগজপত্র চাওয়ার কারনে সুপার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিকট দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

 

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আব্দুল হক বলেন, ওর নিয়োগ বোর্ড ঠিক আছে। স্বাক্ষর জালের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাক্ষর কোন জাল নেই।

সংযুক্ত থাকুন