মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Logo
অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান প্রকল্পে নয়ছয় এর অভিযোগ

অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান প্রকল্পে নয়ছয় এর অভিযোগ

অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (২য় পর্যায়) প্রকল্পে (৪০ দিনের কর্মসূচি) ইউপি সদস্য নিজাম সরদারের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে হাজিরা খাতায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং প্রতিদিনের হাজিরা খাতায় সকলেরই হাজিরা উঠছে।

 

কাগজে কলমে ২৫ জন শ্রমিকের হাজিরা উল্লেখ থাকলেও কাজ করছে ১২-১৫ জন শ্রমিক। অভিযোগ বাকি ১০ জনের হাজিরা আত্মসাৎ করছে ইউপি সদস্য নিজাম সরদার।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলিশিয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকার ২শ মিটার একটি কাচাঁ রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ১০-১২জন শ্রমিক ওই প্রকল্পের আওতায় কাজ করছে। এ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে তালিকায় ২৫ জনের নাম রয়েছে যারা প্রতিদিন জনপ্রতি ২শ টাকা হাজিরার অর্ন্তভূক্ত। এ প্রকল্পে একজন শ্রমিক ৪০ দিনে ২শ টাকা হিসেবে ৮ হাজার টাকা হাজিরা পাবে।

 

এ তালিকায় রয়েছে- আয়না বেগম, আলেয়া বেগম, গোলক গাঙ্গুলী, হালিম গাজী, জাহাঙ্গীর ভূইয়া, কবিতা রানী দাস, খাদিজা বেগম, লিটন সরদার, হামিদ মল্লিক, বাবুল বিশ্বাস, কবীর মোড়ল, আবু হুরায়রা, ছবুরোন বেগম, মনিরা বেগম, হালিমা বেগম, নার্গিস বেগম, নজরুল গাজী, পারুল বেগম, রেবেকা বেগম, রেহেনা বেগম, শিবু দাসী, সাইফুল মল্লিক, সুনিতা দাস, কামাল বিশ্বাস ও নূরজামান। কিন্তু ওই ২শ মিটার রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করছে নার্গিস বেগম, রেবেকা বেগম, আলেয়া বেগম, আবু হুরায়রার পক্ষে তার স্ত্রী, শিবু দাসী, খাদিজা বেগম, হালিমা বেগম, মনিরা বেগমের পক্ষে তার ছেলে, আয়না বেগমের পক্ষে তার ছেলে, হামিদ মল্লিক, পারুল বেগমের পক্ষে তার স্বামী ও জাহাঙ্গীর ভূইয়া।

 

কর্মরত ১২ জন শ্রমিকের কাছে এ প্রতিবেদক বাকি ১৩জন শ্রমিকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, সুনিতা বেগম, রেহেনা বেগম, লিটন ও কবিতা রানী দাস ৪জন ও কাজের সরদার গোলক গাঙ্গুলীসহ মোট ৫জন গোলক গাঙ্গুলীর নিকট হাজিরা খাতায় হাজিরা দিয়ে চলে গেছে। এবং শ্রমিকদের হাজিরা নিয়ে গোলক গাঙ্গুলী ওই স্থান থেকে চলে গেছে। কর্মরত ১২জন ও ৫জন চলে যাওয়াসহ মোট ১৭জন শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া গেলেও ৭জন শ্রমিকের কোন হদিস মেলেনি।

 

এ সময় কিছু এলাকাবাসী মাটি ভরাটের স্থানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করে বলেন, ২৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখে কাজ শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ২শ মিটার রাস্তার ৮০মিটার রাস্তা মাটি দিয়ে ভরাট করা ২৫ জন শ্রমিকের পক্ষে সম্ভব হয় নি। এ প্রকল্পের সময়সীমা ৪০ দিন। ২৫জন শ্রমিক দিয়ে ওই ২শ মিটার রাস্তা ৪০ দিনেও মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম সরদার প্রজেক্ট ইনচার্জ হিসেবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের মনোনিত কামাল বিশ্বাস, সাইফুল মল্লিক, ছবুরোন বেগম, বাবুল বিশ্বাস, কবীর গাজী, নূরুজ্জামান ও হালিম গাজী মোট ৭জন ব্যক্তির নাম শ্রমিক তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে হাজিরার টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে। এ কারনে কাজের এতো ধীরগতি। এলাকাবাসী সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষের নিকট দূর্নীতির ব্যাপারে খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে কাজের সরদার গোলক গাঙ্গুলীকে ৭জন শ্রমিকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ হাজিরার টাকা ভাগবাটোয়ারার করে সমাধান করে নিয়েছে। এর বেশি তিনি আর কিছু জানাতে পারেবন না। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম সরদারের সাথে কথা বলে জানার জন্য অবগত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নিজাম সরদার দুর্নীতির ব্যাপার অস্বীকার করে বলেন, সকল শ্রমিকই কাজ করছে, যেহেতু শ্রমিকদের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদারকি করবো। আর শ্রমিকের নাম ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জানে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নাদির হোসেন মোল্যা জানান, শ্রমিককের হাজিরা ভাগভাগির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। হয়তো ইউপি সদস্য ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করতে চেয়ারম্যান জানে বলে বলেছেন। এ প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি অবগত নন এবং যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে ইউপি সদস্যসহ দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।

সংযুক্ত থাকুন