বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
Logo
অগ্নিদহনে পুড়ছে যশোর-খুলনা : তেতে উঠেছে রাস্তাঘাট

অগ্নিদহনে পুড়ছে যশোর-খুলনা : তেতে উঠেছে রাস্তাঘাট

৭ বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড : যশোরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি : খুলনায় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি

অগ্নিদহনে পুড়ছে যশোর ও খুলনা জেলা। তেঁতে উঠেছে রাস্তাঘাট। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোজাদারদের নাকাল অবস্থা। সর্বত্র হাঁসফাঁস। স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় এ অঞ্চলের মানুষ।


ইতিমধ্যে তাপমাত্রার পারদ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়েছে। সাত বছরের মধ্যে রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল রোববার) দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে, ৪১ দশদিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০১৪ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।’ এদিন খুলনায়ও গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।


রোববার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আমিরুল আজাদ জানান, খুলনায় রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৭ বছরে খুলনার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে ওঠেনি।


আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, তাপ প্রবাহের কারণে প্রচ- গরমে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আপাতত ২/৩ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে।

 

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজকের আগে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাছাড়া ১৯ ও ২৪ এপ্রিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।


হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘তাপপ্রবাহ আরও ২-৩ দিন থাকতে পারে। তাতে আরও কিছু তাপমাত্রা বাড়তে পারে।’ বারবার তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে তাপমাত্রা তীব্র হচ্ছে।’ এতে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।


অনেকটা যেন আগুন ঝরা আবহাওয়ায় একেবারে তেতে উঠেছে রাস্তাঘাট। বাইরে বের হলে চোখ-মুখ পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমনকি ঘরেও স্বস্তি নেই। বৈদ্যুতিক পাখা তো দূরের কথা এসিতেও কাজ হচ্ছে না। এদিকে এক পশলা বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে চেয়ে রয়েছে যশোর-খুলনাঞ্চলের মানুষ ও প্রাণিকুল। প্রতি বছর বৈশাখে সাধারণত ঝড়-ঝঞ্ঝা লেগেই থাকে।

 

এবার যশোর-খুলনায় বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচ- গরমের ফলে বোটা শুকিয়ে খসে পড়ছে গাছের আম ও লিচু। দিনভর সূর্যতাপে নুইয়ে পড়ছে গাছের পাতাও। ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির। নেতিয়ে পড়ছে সবজি। ফসলি ক্ষেত বৃষ্টির অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। শহর থেকে শুরু করে পানির জন্য চলছে হাহাকার।


খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে পুড়ছে ফসলের ক্ষেত। সম্প্রতি বছরের মধ্যে এবার খরা বেশি। দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস বৃষ্টি হয় না।


দীর্ঘ খরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরমুজ ক্ষেত। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নদী-খালগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনে এ অঞ্চলের কৃষি হুমকির মধ্যে পড়বে। একদিকে, অনাবৃষ্টির কারণে বাড়ছে গরমজনিত রোগ।

সংযুক্ত থাকুন