নওয়াপাড়া বেঙ্গল খেয়াঘাটে অবৈধভাবে কার্গো-জাহাজ নোঙ্গর : যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে!

0
57


স্টাফ রিপোর্টার
যশোরের শিল্প বন্দন নগরী নওয়াপাড়ার বেঙ্গল খেয়াঘাটের পাশে অবৈধভাবে কার্গো-জাহাজ নোঙ্গর করার কারণে নদী পারাপারের যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই ঘাট পারাপার হওয়া শত শত যাত্রী। যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠলেও এ ব্যাপারে মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিআইডব্লিটিএ এর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এখানে বাঁশ পুতে তখতা দিয়ে অস্থায়ী জেটি নির্মাণ করে মালমাল লোড আনলোড করা হচ্ছে বলে জানায় পারাপারের যাত্রীরা। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ওই যাত্রী সাধারণ। গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেঙ্গল খেয়াঘাটের অস্তিত্ব অবৈধ দখলদারদের কারণে বিলীন হওয়ার পথে। ধুকতে থাকা এ ঘাটের পাকা অংশটুকু ছাড়া আর কোন জায়গা অবশিষ্ট নেই। দু’ধারে ছোট বড় কার্গো জাহাজ নোঙ্গর করে দখল করে রাখা হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপার হয়। ওপার থেকে যাত্রী নিয়ে এসে নোঙ্গর করা জাহাজেই যাত্রীদের নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে মাঝি। ফলে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও বাইসাইকেল নিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রীরা পড়ছে চরম ঝুঁকিতে। জাহাজ থেকে তখতার সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হওয়াসহ জীবন নাসের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এখানকার যাত্রীরা। শংকরপাশা গ্রামের মোঃ মিলন জানান, এখানে অবৈধভাবে জাহাজ নোঙ্গর করায় আমরা ঠিকমত যাতায়াত করতে পারিনা। অপর একজন যাত্রী জানান, জাহাজের সিড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অবৈধ দখলকারীরা সরকারী ঘাট দখল করে এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের কর্মচারী ময়না বেগম জানান, এক সময় এ ঘাট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করতো প্রতিদিন, তবে ঘাটের বেহাল দশার কারণে এ ঘাট দিয়ে মানুষ আগের মত আর পার হতে চায়না, আমরা বাধ্য হয়ে পার হই। জাহাজ নোঙ্গর করে মাল লোড আনলোড করায় জাহাজে যাত্রী নামিয়ে দেয়। এরপর সার-কয়লা ও ঘাটের লেবারদের মাঝ দিয়ে সিড়ি বেয়ে বেয়ে তারপর নিচে নামতে হয়। নজরুল ইসলাম নামে একজন জানান, সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে প্রভাবশালী মহল ঘাট দখল করে অস্থায়ী জেটি নির্মাণ করেছে। দ্রুত ঘাট দখলমুক্ত করে ঘাট পারাপারে উপযুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঘাটের মাঝি সুভাষ জানান, ঘাটে নৌকা লাগানো যায়না তাই বাধ্য হয়ে জাহাজের গায়ে নৌকা ভিড়িয়ে যাত্রী নামাই। তবে ওই ভাবে যাত্রীরা পারাপার হতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়ে। বয়স্কদের ধরে ধরে পার করতে হয়। আর যারা বাই সাইকেল কিংবা কোন মালামাল নিয়ে এখান দিয়ে পার হতে চায় তাদের নিয়ে পড়তে হয় চরম বিপাকে। আমরা চাই এখান থেকে জাহাজ সরিয়ে পারাপারের ঘাটকে উন্মুক্ত রাখতে হবে। তা না হলে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও জানান, নদী বন্দরের লোক দেখি প্রায়ই আসে, কিন্তু এই জাহাজ ড্রাইভারদের কিছু বলেনা, বললে এরা এখানে জাহাজ ভিড়াতো না। অফিসারদের সাথে কোন যোগাযোগ আছে এদের। এব্যাপারে নওয়াপাড়া নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, ওখানে দীর্ঘদিন যাবৎ নদী পারাপারের জন্য একটি ঘাট রয়েছে, যেখান থেকে অনেক মানুষ পারাপার হয়ে থাকে। ওখানে প্রতিবন্ধকতা করা যাবেনা। তাছাড়া কেউ অবৈধ জেটি স্থাপন করেছে কি/না বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

Comment using Facebook