পাউবো প্রকৌশলীর চরম দায়িত্বহীনতা শৈলকুপায় গড়াই নদী ভাঙনে হুমকির মুখে দুই’শতাধিক পরিবার

0
50


শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নতুন করে আবারো তীব্র আকারে গড়াই নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাদলা ও ধলরাহচন্দ্র ইউনিয়নের মাঝদিয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রামের প্রায় দুই’শতাধিক পরিবারের। ইতোপূর্বে নদীগর্ভে সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব। এমন ভাঙন রোধে আগাম কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বাপ্পির দায়িত্বহীনতাকে দুষচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এতে করে চরম ক্ষুদ্ধ ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন সারুটিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া গ্রাম। প্রায় দুই যুগ ধরে একে-একে গড়াই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বদলে গেছে নদীর গতিপথ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়ুরিয়া- কৃষ্ণনগর, খুলুমবাড়ি, মাদলা, কাশিনাথপুর ও লাঙ্গলবাঁধ। ভিটেবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পাউবোর প্রধান সেচ খালের কাছে। সারুটিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, নদী ভাঙন একদম আমার বাড়ির কাছে চলে এসেছে। সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকি কোন সময় ভিটে-মাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। প্রায় ২ মাস ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমছে আর গড়াই নদী ভাঙনের ভয়াল রূপ নিচ্ছে। ইতোপূর্বে নদীগর্ভে ভিটে-মাটি চাষাবাদের জমি ও সহায়-সম্বল হারিয়েছি আমরা। হাকিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাদলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান বলেন, গড়াই নদীর তীব্র ভাঙনে এলাকার অনেক বাড়িসহ ফসলি জমি যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। অতি সত্বর নদী ভাঙন রুখতে না পারলে বিলীন হয়ে যাবে গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ ভিটে-মাটি এবং ফসলি জমি। সহায় সম্বল হারানো একই গ্রামের রেবেকা খাতুন বলেন, নদীগর্ভে সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। নদীর ভয়াল আচরণে গত বিশ বছরে ৪ বার জায়গা পরিবর্তন করেছি, আবারো আমরা ভাঙনের হুমকির মুখে। আমার স্বামী মারা গেছে, এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ভিটা আঁকড়ে ধরে আছি। বর্তমানে খুব কষ্টে দিন পার করছি। আমরা যে কষ্টে আছি এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বাররা খোঁজ নেয় না। এই ভাঙন রোধে আগাম কোনো ব্যবস্থা নিলে হইতো এতো ভয়ানক রুপ নিতো না সর্বনাশা গড়াই। এ বিষয়ে সারুটিয়া ও ধলরাহচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুন ও মতিয়ার রহমান বিশ্বাস উভয়ই বলেন, নদী ভাঙন রোধে ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলীর এসব এলাকায় পরিদর্শন করার কথা ছিল। তিনি তা না করে দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। যদি আগাম ব্যবস্থা নিতেন হইতো এমন ভাঙন রুপ নিতো না। অতি দ্রুত ভাঙনরোধে পদক্ষেপ না নিলে হইতো পরিবারগুলো সব হারিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে যাবে। তারা অতি দ্রুত ভাঙন রুখতে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। শৈলকুপা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার বনি আমিন জানান, বিষয়টি আপনাদের(সাংবাদিক) মাধ্যমে জানলাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বাপ্পি মুঠোফোনে জানান, আমাদের শাখা কর্মকর্তা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রুখতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comment using Facebook