কেশবপুরে বেঁচে থেকেও ‘মৃত’ নুরজাহান : বঞ্চিত হলেন ভাতা

0
87

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

কেশবপুরে নুরজাহান খাতুন (৭১) নামে এক জীবিত বৃদ্ধাকে মৃত দেখানোয় হচ্ছেন ভাতা বঞ্চিত। ভাতার টাকার বার্তা মোবাইলে এলেও ওই বৃদ্ধা সেটি উত্তোলন করতে পারেননি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ভুলেই তার নাম মৃতের তালিকায় গেছে এমনটি অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। নুরজাহান খাতুন উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের মৃত মহসীন সরদারের স্ত্রী।

বয়স্ক ভাতা বই ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে বয়স্ক ভাতায় ভাতাভোগী হিসেবে নুরজাহান খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। বই নম্বর- ৬/৬১/ক। প্রতিমাসে পাঁচশ টাকা হারে তিনি ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রথমবার বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। পর্যায়ক্রমে সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল তিনি ভাতা উত্তোলন করেছেন। এরপরে মোবাইলে ভাতার টাকার বার্তা আসলেও তিনি উত্তোলন করতে দেরি করায় ওই ভাতার টাকা ফেরত চলে গেছে। পরে মোবাইলে আর কোন বার্তা না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন তাঁর নাম মৃত ব্যক্তির তালিকায় রয়েছে।

এ কারণে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস তার ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। এছাড়া গত দুই বারের ভাতার টাকা উত্তোলন না করায় সেটিও তিনি আর ফিরে পাবেন না।নুরজাহান খাতুনের পোতা ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোবাইলে দাদির টাকার মেসেজ (বার্তা) না আসায় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান-‘আমার দাদির নাম নাম মৃতের তালিকায় চলে গেছে।

জীবিত ব্যক্তির নাম কীভাবে মৃত ব্যক্তির তালিকায় গেল জানতে চাইলে সমাজসেবা অফিসার বলেছেন ‘দ্রুত এটি সংশোধন করে দেওয়া হবে।’ তবে আমার দাদি গত দু’বারের ভাতার টাকা আর পাবেন না সমাজসেবা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের ডাটাবেজে নুরজাহান খাতুন নামে ওই বৃদ্ধা জীবিত তালিকায় রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের ডাটাবেজে নুরজাহান খাতুন নামে ওই বৃদ্ধা জীবিত তালিকায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহা. আলমগীর হোসেন বলেন, ভাতাভোগীরা মারা যাওয়ার কারণে প্রতি ৩ মাস অন্তর রিফ্রেশমেন্ট হয়। সাত থেকে আট মাস আগে রিফ্রেশমেন্ট করার সময় নুরজাহানের জায়গায় অন্য একজনের নাম ঢুকে গেছে। নুরজাহানের নামটি ভুলক্রমে নিষ্ক্রিয় বা মৃত ব্যক্তির তালিকায় চলে যায়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে স¤প্রতি অফিসে বিষয়টি জানালে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নুরজাহান খাতুন গত দুই বারের ভাতার টাকা উত্তোলন না করায় ওই টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে।

Comment using Facebook