আশাশুনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত

0
104

মুকুল শিকারী, আশাশুনি

আশাশুনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সেলিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। শনিবার (৫ফেব্রুয়ারি) উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মিরপুর, ঢাকার শিক্ষা অফিসার (প্রকিউরমেন্ট) শাহীন মিঞা তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন। অভিযোগের বাদী বুধহাটা ইউপি’র মহিলা মেম্বার মমতাজ বেগম, বিউটি, সদস্য শিষ মোহাম্মদ জেরী, রেজওয়ান আলি, রবিউল ইসলাম, লিয়াকত আলী বিশ্বাস, আলতাফ হোসেনসহ অনেকে তদন্তকালে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য ও প্রমানাদি পেশ করেন। যার মধ্যে কুঁন্দুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে শিবপ্রসাদ সরকারকে নিয়োগ দেওয়া, তার বয়স জন্ম নিবন্ধনে (নং ০২৭২৭৮) ২৯ বছর ১১ মাস ২৬ দিন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (নং. ৮৭০৭৫৫৮০৭২০০) সম্পূর্ন ভূয়া ও জাল সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

কারণ তিনি ১৯৯৬, ২০০০, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। বিষয়টা জানাজানি হলে শিব প্রসাদের ভাগ্নে স্বাস্থ্য সহকারী রবীন্দ্র নাথদে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা মধ্যস্থতায় বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও অভিযুক্ত আবু সেলিম অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কুট কৌশালে শিব প্রসাদের চাকুরীকে স্থায়িত্ব করার জন্য তার ছোট ভাইকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

ফলে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক তফশিল প্রদান করে অন্য স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন এ স্কুলে প্রধান শিক্ষকের তফশিলের বিপরিতে দপ্তরীর ছোট ভাই উত্তমের প্ররোচনায় মিঠুন গাজীকে বাদী করে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করান। অন্য পক্ষও লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু এইউইও আবু সেলিম প্রধান শিক্ষক ও বাদীকে চিঠি না দিয়ে ৩০ সেপ্টেমর’২০ তারিখে তদন্তে গিয়ে তদন্ত কক্ষে মাত্র ১৫ জন লোকজন নিয়ে তদন্ত শেষ করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের তফশিল বাতিল না করে পুনরায় তফশীল ঘোষণা করলে দাতা সদস্য বিধান চন্দ্র মন্ডল দেং ১১৪/২০২০ মামলা রুজু করেন। কিন্তু তারপরও মাননীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক বাতিলকৃত বিদ্যোৎসাহী উত্তমকে (দপ্তরী কাম প্রহরীর ছোট ভাই) ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়ন করেন। বিজ্ঞ সিনিঃ জেলা জজ সাতক্ষীরা (মিসকেস ৫/২০২১ মামলা) উভয় কমিটি বাতিল করে উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে যথাশীঘ্রই নিরপেক্ষ, আইনানুগ ও অংগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোট সিভিল রিভিশন ১৫৫৭/২০২১ রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কøাষ্টার অফিসার আবু সেলিম নিজে বাদী হয়ে আপিল করেন।

মহামান্য হাইকোট সিভিল রিভিশন ১৫৫৭/২০২১ বাতিল করে সিনিয়ার জেলা জজ সাতক্ষীরার রায় বহাল রাখেন। ক্লাস্টার অফিসার মহামান্য হাইকোটের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গত ২০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোটে আপিল করেন। এছাড়াও অটঊঙ এর স্ত্রী রুমানা আফরোজ এই উপজেলার হামকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও প্রধান শিক্ষককে চাপে রেখে শিক্ষক হাজিরা খাতায় ও রিটার্নে স্বাক্ষর করান। এখন তিনি ৩ সন্তানের জননী। তাহলে ৩য় সন্তান গ্রহণের সময় কিভাবে তিনি মাতৃত্বছুটি ভোগ করলেন সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে অভিযুক্ত আবু সেলিম আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করে এমপি মাহোদয় কর্তৃক বাতিলকৃত বিদ্যুৎসাহী উত্তমকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়ন করে রেজুলেশন করেন এবং স্কুলের নামে সোনালী ব্যাংক আশাশুনি শাখায় রক্ষিত ২৮০১১০০০৮৮৭৬ নং হিসাবের সিগনেটরী পরিবর্তন করেন। মামলা চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষককে উক্ত কমিটি গঠনের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অর্ডার চান। এতে অগ্নিশর্মা হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মামলা দিয়ে সাসপে- করান হয়েছে দাবী করে তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাইকগাছায় জুলাই/২০১৯ থেকে ডিসেম্বর/২০১৯ পর্যন্ত মটর সাইকেলের জ্বালানী, মেরামত ও ট্যাবের ইন্টারনেট বিল উত্তোলন করে ৮ডিসেম্বর আশাশুনিতে যোগদান করে একই সময়ে একই বিল উত্তোলন করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এইউইওদের সহযোগিতায় ও একজোট হয়ে তারা ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে যত ধরণের বরাদ্দ এসেছে প্রতিটি খাত হতে তিন লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন ববাদ্দ হতে প্রতিটি স্কুল পরিদর্শন করে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। প্রতাপনগর ও আনুলিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্কুলে মিস্ত্রি ও লেবার পাঠিয়ে দিয়ে ১০-২০% কাজ করে ক্ষুদ্র মেরামতের সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের আদেশ ব্যতীত তিনি ২য় উচ্চতর গ্রেড (৬ষ্ঠ গ্রেড) এর বেতন ভাতাদি ভোগ করছেন। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এব্যাপারে তারা প্রমানের পক্ষে বিভিন্ন ডকুমেন্টস উপস্থাপন করেন। অপর পক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিতর্কিত কমিটির সদস্য, দপ্তরী কাম প্রহরী, ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানসহ কয়েকজন স্বাক্ষী উপস্থাপন করেন। তারাও আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সেলিম জানান, দপ্তরী নিয়োগের সময় আমি কর্মস্থলে ছিলাম না। আমি আদালতে কোন মামলা করিনি। প্রধান শিক্ষক সার্কুলার দিতে পারেননা, আমার সার্কুলার মত কমিটি হয়েছে। কমিটিতে কে থাকলো না থাকলো সেটি আদার দেখার বিষয় না।

টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তারাই প্রমান দিবে। বরং তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মহিলা মেম্বার তার মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে পূর্ব কামালকাটি ও কুঁন্দুড়িয়া দু’টি স্কুলে ভর্তি দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা নিয়ে আসছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন মিঞা সাংবাদিকদের জানান, উভয় পক্ষের কথা শুনেছি, লিখিত জবানবন্ধি নিয়েছি। পর্যালোচনা করে রিপোর্ট করা হবে।

Comment using Facebook