মণিরামপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ভাইরাল চেয়ারম্যান লিটন

0
28


হারুন অর রশীদ, মণিরামপুর
যশোরের মণিরামপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের বারন্দায় ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে। ওই পেটানোর ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। আরও অভিযোগ উঠেছে পরে পরিষদের ঘরের মধ্যে নিয়ে চেয়ারম্যান দরজা আটকিয়ে বাবুকে মারপিট করে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে। এদিন দুপুরের পর থেকে মোটা লাঠি দিয়ে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাবুর মা মেহেরুন্নেছা পরিষদে গেলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, এদিন সকালে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ওয়াজেদ আলী ও রমেশ বিশ^াস ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের আমজাদ হোসেন মোল্যার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু (২৪) কে পরিষদ ধরে আনেন। এরপর ইউপি চেয়ারম্যন আলমগীর কবীর লিটন বাঁশের লাঠি দুই হাত দিয়ে ধরে ছাত্রলীগ কর্মী বাবুকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সুবজ বিশ^াস জানান, বাবু ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী। শুধু মোটরসাইকেলে শব্দ হওয়ার কারনে বাবুকে ধরে নিয়ে মারপিট করেছেন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন। বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছিল বাবু। এই রাগে বাবুকে নৌকার বিদ্রোহী চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন বাবুকে মারপিট করতে পারেন বলে তার দাবি। ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি মাঠে গ্রীষ্মকালীন খেলাধূলা চলছিল। খেলা চলাকালে বিকট শব্দ করে বাবু মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। এ কারনে তাকে শাসন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান জানান, মোটরসাইকাইকেল চালোনোর সময় পড়ে গিয়ে শব্দ হয়। শুধু এই অপরাধে বাবুকে পরিষদে ধরে নিয়ে পেটান চেয়ারম্যান লিটন। তিনি পরিষদের গিয়ে দেখেন ঘরে মধ্যে আটকিয়ে স্লাইরেঞ্জ দিয়ে মারপিট করছেন চেয়ারম্যান লিটন। চেয়ারম্যানকে নিবৃত করতে গিয়ে তিনিও হেনস্থার শিকার হন। উল্লেখ্য, আলমগীর হোসেন লিটন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় আলমগীর হোসেন লিটন দল থেকে বহিষ্কার হন। মণিরামপুর থানার ওসি নূর-ই আলম সিদ্দীকি বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comment using Facebook