যশোরে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের ছড়াছড়ি : ঘটছে দুর্ঘটনা : নির্বিকার কর্তৃপক্ষ!

0
30


মাসুদ পারভেজ, রূপদিয়া (যশোর) থেকে
যশোরে জেলা জুড়ে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের ছড়াছড়ি। যে কারণে গেটম্যান না থাকায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। যদিও একাধিক দুর্ঘটনার কারণে কিছু কিছু অবৈধ রেলক্রসিং আটকানো হয়েছিল তার পর আবার কোন অদৃশ্য কারণে তা খুলে দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আপাদমস্তক অনিয়ম দুর্নীতির কারণে এমন অবস্থা হয়েছে।

যশোর সদরের রূপদিয়া প্রতিনিধি জানান, পাকশী বিভাগের ১শ’ ৬৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৬২টি বৈধ, বাকি সব রেলক্রসিং অবৈধ। সদর উপজেলার ১৪ বর্গ কি.মি এলাকা জুড়ে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রায় ৪ কি. মি জুড়ে চলমান খুলনাগামী রেলওয়ে লাইন। এরই মধ্যে মোট ১১টি রেলক্রসিং। বৈধ ৩টি অবৈধ ৮টি। ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষকে নিয়মিত রেলক্রসিং পার হতে হয়। মোট ১৫টি গ্রামের মধ্যে শ্রীপদ্দী, ঘোড়াগাছা, রূপদিয়া ও হাটবিলা গ্রামের কিছু অংশ ব্যাতিত সবকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। নরেন্দ্রপুর এলাকায় মোট ১১টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ৩ টিতে গেটম্যান থাকলেও ৮ টি রেলক্রসিংই অবৈধ। বৈধ রেলক্রসিংগুলো হলো নরেন্দ্রপুর রোডের শিশুতলার রেলক্রসিং, গোপালপুর গেট ও বলরামপুর রাস্তার ওপর স্থাপিত রেলক্রসিং।

এছাড়া স্টেশন এলাকার রেলক্রসিং, বটতলা সংযুক্ত চাউলিয়া রাস্তার রেলক্রসিং, চাউলিয়া গ্যাসলাইন এলাকার রেলক্রসিং, কলাপট্টি থেকে গাজিপাড়া প্রবেশের রেলক্রসিং, ঈগল পাম্প থেকে হাটবিলা প্রবেশের মোট তিনটি রেলক্রসিংই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব রেলক্রসিংয়ের দুই পাশে অস্থায়ী সাইনবোর্ডে লেখা আছে, “সাবধান, সামনে লেভেল ক্রসিংগেট, এই গেটে কোন গেটম্যান নাই, এই গেট দিয়ে সকল প্রকার যান-বাহন চলাচল নিষিদ্ধ। আদেশক্রমে: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।” উচ্চশিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য রূপদিয়া কলেজ, রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমী ও রূপদিয়া শহীদস্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর বড় অংশ এসব ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং পার হয়ে একাডেমিক শিক্ষা নিতে আসে। রূপদিয়ার ৩টি পরীক্ষার কেন্দ্রে আসতেও এসব রেলক্রসিং পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস বা হাট বাজারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসার এ অঞ্চলের বেশিরভাগ জনগনেরই এসব অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হতে হয়।

এ ব্যাপারে রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমির প্রধান শিক্ষক বি এম জহুরুল পারভেজ বলেন, রূপদিয়া অঞ্চলে নামমাত্র কয়েকটি রেলক্রসিংয়ের অনুমোদন ও জনবল থাকলেও বাকিগুলো একেবারেই অরক্ষিত। প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনার খবর কানে আসে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসব রেলক্রসিং পার হয়ে স্কুল কলেজে আসে আবার বাড়িতে যায়। আমাদের মধ্যে সবসময় একটা চাপা ভয় বিরাজ করে। রেলওয়ের যশোর অঞ্চলের দপ্তরের সূত্রমতে, পাকশী বিভাগের আওতায় যশোর-খুলনা অঞ্চলে ১৬৮টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে রূপদিয়া অঞ্চলে রযেছে ১১টি। পাকশী বিভাগের ১৬৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৬২টি বৈধ বাকি সব অবৈধ। শেখ হিমেল ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর বলেন, অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয়রা নিজেদের প্রয়োজনে এসব ক্রসিং বাড়িয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তদারকি প্রয়োজন। এসব ক্রসিং চালু করে মানুষের জানমাল ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

Comment using Facebook