বাঘারপাড়ায় দেশীয় মাছ রক্ষায় ব্যতিক্রম উদ্যোগ : অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনায় জোরদার

0
32


বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের বাঘারপাড়ায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির অভয়াশ্রম রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ। মাছের বংশ রক্ষায় অভয়াশ্রমটি সংস্কার করায় মৎস্যজীবী ও ভোক্তারা বেশ খুশি। ইতোমধ্যে মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে চিত্রা নদীর এ মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের সঠিক তদারকি থাকলে মৎস্য উৎপাদনেও বেশ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধলগ্রাম এলাকায় কাজলা নদী থেকে বেরিয়েছে চিত্রা। এরপর নদীটি এঁকেবেঁকে বিলজলেশ্বরে বুড়ি ভৈরবের সঙ্গে মিশেছে। চিত্রার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। চিত্রার উৎসমুখে একটি (স্লুইসগেট) রয়েছে। এই জলক পাট দিয়ে চিত্রার জোয়ার ভাটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির মাছের জন্য শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও প্রজনন মৌসুমে বিচরণ ক্ষেত্র তৈরির জন্য ২০০৩ সালে চিত্রা নদীর গভীর প্রর্যন্ত অংশ বাঘারপাড়া থানার পাশের ৪ দশমিক শূন্য ৫ হেক্টর এলাকায় একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়।

এ ছাড়া মে মাসে নদীর গলগলিয়া এলাকায় ১ হেক্টর আয়তনের আরও একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, বাঘারপাড়া থানা সংলগ্ন চিত্রা নদীর বাঁকে মৎস্য অভয়াশ্রম চারপাশে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা। মাঝে খুঁটির সাথে লাল পতাকা ও গাছপালা দেওয়া আছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাক হোসেন জানান, অভয়াশ্রমে প্রচুর শোল, বোয়াল, পাবদা, শিং, মাগুর, টেংরাসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ রয়েছে। বর্ষায় ডিম ছাড়লে তা ছড়িয়ে পড়বে আশেপাশের এলাকায়। এই অভয়াশ্রমটির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। সুরক্ষিত অভয়াশ্রমের আশপাশে অনেকেই মাছ ধরছে। তবে সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ আরো জোরদার করা গেলে এলাকার মানুষ সচেতন হলে এ অভয়াশ্রম থেকে মানুষ সুফল পাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা জানান, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ব্যবস্থাপনা জোরদার ও জনসচেতনা সৃষ্টি করা গেলে আরো বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব। তিনি আরো বলেন, অভয়াশ্রমটি কচুরিপনা অপসারণ করে দুই শত বাশের বেরিকেড দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অসাধু মৎস্য শিকারিরা অভয়াশ্রমের মধ্যে যাতে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ সহযোগিতা করলে দ্রুতই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

Comment using Facebook