খুলনায় রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট এক মিনিটে উধাও : হতাশ শিক্ষার্থীরা

0
46


মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার (খুলনা)
আধুনিক হয়েছে খুলনার রেল স্টেশন। উন্নত হয়নি সেবার মান। রাতভর লাইনে দাড়িয়ে থেকেও খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এমনকি অনলাইনেও খুলনা থেকে রাজশাহী যাওয়ার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। খুলনা-রাজশাহী রুটে প্রতিদিন কপোতাক্ষ ও সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে কপোতাক্ষ এবং বিকেল ৩টায় সাগরদাঁড়ি খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া অনলাইনেও ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়। আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে রেল। আর খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট পেতে লম্বা লাইন পড়েছে খুলনা স্টেশনে। ১৫/১৬ ঘন্টা আগে থেকেই লাইন দিয়ে এমনকি রাতভর অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। রাজশাহীর টিকিট যেন তাই সোনার হরিনে পরিণত হয়েছে।

অনেকে টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। এক মিনিটে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট শেষ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। শুরুর এক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি শেষ বলে জানান কাউন্টারের বাইরে দাড়িয়ে থাকা টিকিট প্রত্যাশী এক যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, গত বুধবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে দাড়িয়ে সারা রাত রেল স্টেশনের কাউন্টারের লাইনে সরাসরি রাজশাহী যাবার টিকিটের জন্য তারা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের রিতিমতো যুদ্ধে অংশ নিতে হয় আগামী ২৪ জুলাই বুধবারের টিকিট কিনতে। বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সকাল ৮ টা ২ মিনিটের মধ্যে কাউন্টার ও অনলাইনের সবমিলিয়ে ১৩০টি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। মো: সাকিল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আধুনিক হয়েছে খুলনার রেল স্টেশন। উন্নত হয়নি সেবার মান। সারারাত এখানে থেকে কষ্ট করেছেন একটি টিকিটের জন্য কিন্তু পায়নি। সকালে তাকে কাউন্টার থেকে ফুলবাড়িয়ার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বাসে করে রাজশাহী যেতে হবে। সেখানে থেকে তাকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ওসামা ইসলাম বলেন, অনেক কষ্টে রাজশাহী যাওয়ার টিকিট পেয়েছি। রাতে এখানে প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সকলকে প্রতিবাদী হতে হবে। না হলে কোন দাবি আদায় সম্ভব নয়। ঢাকায় রনি প্রতিবাদি হয়ে তার দাবি আদায় করে নিয়েছেন। সকলে প্রতিবাদি হলে দাবি পূরণ হবেই।

এদিকে খুলনা স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সাহা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দু’ঈদে যাত্রীদের চাপ কমেছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা আসলেই যাত্রীদের চাপ বাড়ে। বুধাবার ২৪ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। আজ ২৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীরা সরাসরি রাজশাহীর টিকিট না পেয়ে ওই অভিমুখী স্টেশনের টিকিট নিচ্ছেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

Comment using Facebook