অভয়নগরে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

0
100

তাওহীদ হাসান (উসামা)

অভয়নগরে শ্বাস রোধ করে স্ত্রী ও তাঁর দুই মেয়েকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চাপাতলা নগরঘাটের একটি ঘাসবন থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত নারীর স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুকে (৩৪) আটক করেছে পুলিশ।

আটক জহিরুল ইসলাম বাবু যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মশিয়ার রহমান বিশ্বাসের ছেলে। এবং নিহত সাবিনা ইয়াসমিন বিথির স্বামী।

নিহতরা হলেন- স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথি (২৮), মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯) ও দুই বছর বয়সী আরেক মেয়ে সাফিয়া।

নিহত সাবিনা ইয়াসমিন বিথির বাবা মুজিবর রহমান দৈনিক নওয়াপাড়াকে বলেন, একমাস আগে আমার মেয়ে ও তার দুই মেয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। শুক্রবার আমার জামাই জহিরুল ইসলাম বাবু আমার মেয়ে ও তার দুই মেয়েকে নিতে আসে। সকাল সাড়ে ১১টার সময় আমাদের বাড়ি থেকে তারা রওনা দেয়।

এরপর আমার বিয়াই (জামাই জহিরুলের বাবা) বিকেল ৫টার দিকে ফোন করে বলে- আমার ছেলেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি, আপনারা চলে আসেন। এরপর জানতে পারি, আমার মেয়ে ও তার দুই মেয়েকে জামাই খুন করেছে।

মুজিবর রহমান আরও বলেন, ১২-১৩ বছর আগে বাবুর সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো।

পুলিশ জানায়, দুপুরে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও দুই মেয়েকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন জহিরুল। বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা উপজেলার ভৈরব নদের নগর খেয়াঘাট পার হয়ে চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছান। তখন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা–কাটাকাটি চলছিল। চাঁপাতলা গ্রামে একটি কলাবাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন জহিরুল। এরপর লাশ বাগানে ফেলে রেখে বাড়িতে চলে যান তিনি।

অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান বলেন, জহিরুল ইসলাম বাবু তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত তিন জনের লাশ উপজেলার চাপাতলা নগরঘাটের ঘাসবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেন বা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

Comment using Facebook