চৌগাছার এবিসিডি হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষককের স্ত্রীকে নিয়োগে জালিয়াতি: সাময়িক অব্যাহতি

0
29

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে সার্টিফিকেট জালিয়াতি, নিয়োগ বোর্ডের রেজুলেশন জালিয়াতি, রেজুলেশনে ফ্লুইড দিয়ে পদের নাম পরিবর্তন, ভুয়া নিয়োগ দেয়া, তথ্য গোপন করে মানথলি পেমেন্ট অর্ডারভূক্ত (এমপিওভূক্ত) করানোসহ নানা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে অভিযোগ তদন্তে উপজেলার জেএইচডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহাজাহান কবীর উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের (আরাজিসুলতানপুর-বকসীপুর-মাঠচাকলা-দেবীপুর) এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়া মোছাম্মাৎ খাদিজা খাতুন তাঁর স্ত্রী। এছাড়াও সুমন মন্ডল নামে আরেক সহকারী শিক্ষককেও একইভাবে নিয়োগ দিয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক। রোববার (১২জুন) বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকার নামা দিয়ে বলেছেন ‘আমরা মে-২০২২ সালের এমপিও সিট দেখে জেনেছি ‘মোছাম্মাৎ খাদিজা খাতুন এবং সুমন মন্ডল নামে দু’জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছে। আমরা পূর্বে কখনও তাঁদের বিদ্যালয়ে দেখিনি, চিনিওনা এবং শিক্ষক হাজিরা খাতায় তাঁদের কোন স্বাক্ষর নাই।’ বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে আমার অগোচরে করা হয়েছে। আমার কাছে মে-২০২২ মাসের বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে গেলে বিষয়টি প্রথমে আমার নজরে আসে। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তিনি নিজের স্ত্রী এবং অন্যএকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং এমপিওভুক্তি করিয়েছেন। রোববার (১২জুন) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তাঁকে সাময়িক অব্যহতি দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষককের নাম বাদ দিয়ে বেতন বিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আগে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণসহ মাঠচাকলা গ্রামের মামুন কবির যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে ওই প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী মোছাম্মাৎ খাদিজা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছেন। আবেদন ও তথ্যপ্রমানের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা, যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন তিনি। এদিকে অভিযোগ করার পরপরই ওই প্রধান শিক্ষকের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি মামুন কবীরকে ম্যানেজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামুন কবীর। তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এরইমধ্যে আমাকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ২০০২ সালে খাদিজা খাতুনের নিয়োগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমার সময়ে খাদিজা খাতুন নামে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন আমার স্বাক্ষরে যে নিয়োগপত্র দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। এমনকি আমার স্বাক্ষরও জাল। এ বিষয়ে আমাকে যেখানে যেয়ে স্বাক্ষী দেয়ার জন্য বলা হবে, আমি দিতে প্রস্তুত আছি। চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে দেয়া হবে। অনিয়ম হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

Comment using Facebook