অভয়নগরে অবৈধ ঘের দখলমুক্ত করতে ফুঁসে উঠেছে জমি মালিকরা

0
48

স্টাফ রিপোর্টার

যশোরের অভয়নগরে অবৈধ ঘের দখলমুক্ত করতে ফুঁসে উঠেছে দিঘলিয়া, বারান্দি, আড়পাড়া ও কোটা গ্রামের জমি মালিকরা। যেকোন মূল্যে ঘের দখলমুক্ত ও পাওনা টাকা আদায় করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অবৈধভাবে ঘের দখল করে রাখায় যে কোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এদিকে ভবদহ ফাঁড়ির এএসআই সামছুল হকের পক্ষপাতিত্ব মূলক আচারণ, জমি মালিকদের হুমকি ধামকি ও নানা স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভবদহ ফাঁড়ি থেকে তাকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল (৯জুন) বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির মালিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা যায়, দিঘলিয়া বিল কেদারিয়া ধান ও মৎস্য চাষ প্রকল্প-১ ও ২ দির্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিল পাশ্ববর্তী উপজেলার বালিধা পাঁচাকড়ি গ্রামের গাজী মোকাম্মেল হক বাবলু। নির্দ্দিষ্ট ডিডের সময়সীমা শেষ হলে আরো ১ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয় সাধারণ জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়া কমিটির মাধ্যমে। সে এক বছর মেয়াদ শেষ হয় গত ২ মাস আগে। অথচ জমি মালিকদের নিষেধ অমান্য করে এখনও বহাল তবিয়াতে মাছ চাষ করে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তাইনা শ্রমিকদের কাজের টাকা না দিয়ে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বহু শ্রমিককে। প্রায় ৩ শতাধিক জমির মালিক অসহায় হয়ে পড়েছে জবরদখলকারী একজন বাবলুর কাছে। ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ প্রতি বছর হারির টাকা আদায় করতে গেলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সময়মত টাকা না পেয়ে গত বছরের হারির টাকা অভয়নগর থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল। এছাড়াও বাবলু গাজীর কাছে হারির টাকা বাবদ জমি মালিকদের পাওনা ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সে টাকা না দিয়ে সমস্ত নিষেধ অমান্য করে ওই এলাকার আকবর বিশ্বাস ও অহিদ মোল্যাসহ কয়েকজনের সহযোগীতায় এখনো মাছ ধরে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও জানান এলাকাবাসী। হুমায়ুন নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, ভবদহ ফাঁড়ির সামছুল হক বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং বাড়াবাড়ি করলে মৎস্য আইনে জেল খাটিয়ে ছাড়বো বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। একারণে এএসআই সামসুল হকের প্রত্যাহার কামনা করছি আমরা। আবজাল হোসেন নামের একজন জমি মালিক প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অনতিবিলম্বে আমাদের পাওয়া টাকা পরিশোধপূর্বক ঘের দখলমুক্ত করে দেওয়া হোক। হাবিবুর রহমান নামের অপর একজন জমির মালিক জানান, জমি মালিকদের নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা তুলে নিয়ে শান্তিপুর্ন একটি সমাধান আশাকরি। এব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জমির মালিক সরোয়ার গাজী বলেন, এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হোক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। জমি মালিকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজী মোকাম্মেল হক বাবলু কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভবদহ ফাঁড়ির এএসআই সামসুল হকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ অনেকে করতে পারে তাই বলে সব অভিযোগ সত্য নয়।

Comment using Facebook