বাগেরহাটে সীমানা নিয়ে দুই এলাকাবাসীর বিরোধ চরমে, সংঘাতের শংকা

0
64

বাগেরহাট সংবাদদাতা

বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন চরবানিয়ারি ও উমাজুড়ি এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই এলাকার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।বুধবার (০৮ জুন) সকালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের লোকজনের দখলের হুমকী প্রতিরোধ করতে সন্তোষপুরের লোকেরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ও নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকশ লোক সীমানার দুই পাশে অবস্থান নেয়।

দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে সীমানার দুই পাশে নাজিরপুর ও চিতলমারী থানা পুলিশের দুটি দল অবস্থান করছে। সন্তোষপুর ইউনিয়নের উমাজুড়ি এলাকার লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর বলেশ্বর নদীর পাড়ে উমাজুড়ি ও চরবানিয়ারি মৌজায় আমরা বসবাস করে আসছেন তারা।

কিন্তু দুই জেলার সীমানা জটিলতার অজুহাতে নাজিরপুর উপজেলার কিছু প্রভাবশালী লোক উমাজুরি ও চরবানিয়ারি এলাকার শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের পায়তারা করে আসছে। মাটিভাঙ্গা এলাকার লোকদের হুমকীতে কিছুদিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উমাজুড়ি ও চরবানিয়ারি এলাকার লোকজন।

স্থানীয় রহমত বাওয়ালী বলেন, নাজিরপুর এলাকার লোকজন আগে একবার আমাদের এলাকার একশ ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।বছর দুয়েক আগে চারটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। ফিরোজা বেগম নামের এক নারী বলেন,কয়েকদিন ধরে নাজিরপুর এলাকার বাবুল ও কেরামতের নেতৃত্বে কিছু লোক উমাজুড়ি এসে রাতের আধারে ঘরবাড়ির উপর ঢিল ছুড়ছে। ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিচ্ছে।

এলাকা ছেড়ে না গেলে মেরে ফেলারও হুমকী দিচ্ছে তারা। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এধরণের হানাহানি আমরা চাই না। এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই নারী। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সীমানা বিরোধ নিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। উভয় উপজেলার লোকদের শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, সীমানা বিরোধ নিয়ে উত্তেজনার খবরে দুই উপজেলার সীমানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া সীমানা যেখানেই হোক জমির মালিকানা একই থাকবে বলেও জানান জেলার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

Comment using Facebook